default-image

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই দিন ধরে পানির পাম্প বিকল হয়ে আছে। এ কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে পানির সংকট চলছে। পানি না থাকায় রোগী, চিকিৎসক ও কর্মরতদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
নার্গিস বেগম নামের এক নারী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুর্ভোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘হাত ধুতে পারছি না। টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। যাওয়া যায় না। উপরতলা থেকে নিচে নেমে পানি আনতে হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যার। অবস্থান পৌর শহরের চন্ডিবের উত্তরপাড়ায়। বর্তমানে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের অবকাঠামো নির্মাণ চলছে। করোনাকালে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ থেকে প্রতিদিন ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই সংখ্যার প্রায় অর্ধেক আসেন ভৈরব লাগোয়া উপজেলা একই জেলার কুলিয়ারচর, নরসিংদীর বেলাব ও রায়পুরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও সরাইল থেকে। রোববার সকালে পানির পাম্পে সমস্যা দেখা দেয়। চেষ্টা করেও পাম্পটি সচল করা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রসূতি বিভাগের এক কর্মী বললেন, ‘টয়লেটে না হয় না-ই গেলাম। কিন্তু পেট থেকে নবজাতক বের করে আনার পর হাতের কাছে যদি পানি না পাই, তাহলে অবস্থা কী হয়?’
পরিচ্ছন্নতা কর্মী ইকবাল হোসেন বলেন, হাতের কাছে পানি না পেলে এত বড় হাসপাতাল ঠিক রাখা কঠিন। পানি নেই। ফলে পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদটি শূন্য থাকায় তিনি এখন দায়িত্বে আছেন। পাম্প বিকল হয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে বিদ্যুতের ভোল্টেজ সমস্যা থেকে পাম্পে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সড়কে ছোট বড় বেশ কয়েকটি কারখানা আছে। চাহিদার বিপরীতে ভোল্টেজের জোগান না থাকায় সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আনা হয়েছে। পানি সরবরাহ সচল করার চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য পড়ুন 0