রবিউল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তি বলছিলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুই দিন আগে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। হাসপাতালের ভেতরের বদ্ধ পরিবেশে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয়। তাঁদের মতো অন্য রোগীরাও তখন দুর্ভোগ পোহান।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ জানিয়েছে, ৩ নম্বর ফিডারে গোলযোগ দেখা দেওয়ায় এমন বিভ্রাট তৈরি হচ্ছে। নওগাঁ পৌর এলাকার ১, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে বুধবার সকাল পৌনে নয়টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।

লাইনটি অনেক পুরোনো। একটু ঝড়বৃষ্টি হলেই লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। আবার লাইনের উন্নয়নকাজের জন্যও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
মোহাম্মদ মনির হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী, নেসকোর নওগাঁ উত্তর অঞ্চল

জেনারেল হাসপাতাল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে। গতকাল সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় করোনা ইউনিট ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ফ্লু ওয়ার্ডে আবছা অন্ধকার। তীব্র গরমে রোগীদের নাভিশ্বাস অবস্থা। রোগীর স্বজনেরা কেউ হাতপাখা, আবার কেউ কাপড় দিয়ে রোগীদের বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সকাল সাতটার দিকে করোনা ইউনিটের বাইরে কথা হয় হারুনুর রশীদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি তাঁর মায়ের অক্সিজেন লেভেল রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ৯০ শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় তখন কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। সকাল সাতটার পর জেনারেটর চালু হলে কেন্দ্রীয় সরবরাহব্যবস্থার লাইনের মাধ্যমে তাঁর মাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়।

লোডশেডিংয়ের সময় বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও নওগাঁর সিভিল সার্জন এ বি এম আবু হানিফ বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর থেকেই ১৫০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন হাসপাতালের জেনারেটর চালু করার চেষ্টা করেন কর্তব্যরত অপারেটর। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় চালু করা সম্ভব হয়নি। ভোরে টেকনিশিয়ান ডেকে এনে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় ত্রুটি সারানো হয়।

আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে নেসকোর নওগাঁ উত্তর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, লাইনটি অনেক পুরোনো। এ কারণে একটু ঝড়বৃষ্টি হলেই লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। আবার লাইনের উন্নয়নকাজের জন্যও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন