বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আনসার সদস্য সাহেদা খাতুন জানান, গতকাল বুধবার সকাল সাতটায় তাঁরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। এরপর উপজেলা থেকে নির্বাচনের সরঞ্জাম নিয়ে বেলা তিনটায় কেন্দ্রে পৌঁছান। এরপর কেন্দ্রেই সারারাত কেটেছে। কেন্দ্রের পাশে কোনো খাবার হোটেল নেই। তাই রাতের খাবারও জোটেনি। সকালে না খেয়েই সাতটা থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ অবস্থায় দায়িত্ব পালন করা খুবই কষ্টকর। তাই অন্যদের দায়িত্ব দিয়ে তাঁরা রান্না শুরু করেছেন।

আরেক আনসার সদস্য সুকুমার বিশ্বাস বলেন, তিনি এর আগেও বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোটের সময় মফস্বলে গেলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মকর্তারা খাবারের জোগাড় করেন। কিন্তু এই কেন্দ্রে তাঁদের চা-বিস্কুট খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আনসার সদস্য জানান, তাঁরা বাড়ি থেকে খুব বেশি টাকা নিয়ে আসেননি। সাধারণত ভোট শেষে তাঁরা টাকা পান। কখনো টাকা পেতে সপ্তাখানেক সময় লাগে। ফলে এখন খাবার কিনে খাওয়া তাঁদের পক্ষে কষ্টকর।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকতরা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে যাঁর যাঁর মতো শুকনা খাবার সংগ্রহ করে খেয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রের পাশে ভাতের হোটেল না থাকায় নিজেরা রান্নার ব্যবস্থা করেছেন।

দায়িত্ব ফেলে আনসার সদস্যরা রান্না করায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পালা করে অন্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে কোনো সমস্যা নেই।

জানতে চাইলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুল করিম জানান, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের খাবারের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ রয়েছে। তাঁরা নিজেরাই খাবারের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে রান্না করে খাওয়ার কথা নয়।

এদিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু সালেহ বলেন, ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই তাঁদের সব টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যার মধ্যে খাওয়ার খরচও আছে। তাঁরা নিজেরাই খাবার সংগ্রহ করবেন—এটাই নিয়ম। ভোটের দায়িত্ব ফেলে কেউ যদি রান্না করে থাকেন, তাহলে সেটি ঠিক করেননি। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

আজ বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ১২টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ভালাইপুর রাহাতুল্লাহ সর্দ্দার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসারের পাশাপাশি ৫ জন পুলিশ সদস্য ও ১৭ জন আনসার সদস্য আছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন