চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভার নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি। নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পৌর বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাবিবুর রহমান। প্রথম আলোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচন ও পৌরসভার সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
default-image
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর আগে কখনো অংশগ্রহণ করেছেন?

হাবিবুর রহমান: ২০১৪ সালের ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অল্প ভোটের ব্যবধানে সে সময় পরাজিত হই। তবে পৌরসভা নির্বাচনে এবারই প্রথম অংশগ্রহণ।

নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের আগ্রহ কেমন?

হাবিবুর রহমান: সাধারণ ভোটাররা উৎকণ্ঠার ভেতরে আছেন, তাঁরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে কি না। যদি তাঁরা কেন্দ্রে যেতে পারেন, তাহলে ধানের শীষে ভোট দেবেন। কারণ, তাঁরা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।

এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ কেমন?

হাবিবুর রহমান: ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই দেখছি, সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকেরা আমার পোস্টার-ব্যানার কেটে দিচ্ছে। প্রচার মাইকও বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।

এ অবস্থায় জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশা করছেন? সে ক্ষেত্রে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাকে ভাবছেন?

হাবিবুর রহমান: প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষ আশা নিয়ে বেঁচে থাকে। আমিও আশা করতে চাই, ভোটাররা নির্বিঘ্নে-নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে ধানের শীষেই ভোট দেবে এবং আমি ১০০ পার্সেন্ট জয়ী হব। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ–মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মতিয়ার রহমানকেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবব।

এই নির্বাচনে বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আপনার সঙ্গে আছেন কি না?

হাবিবুর রহমান: আসলে বড় রাজনৈতিক দলে অনেক সমস্যা থাকে। তারপরও আমি মনে করি, বিএনপিসহ সব অঙ্গসংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন এবং সঙ্গে থাকবেন।

কতটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে এবং কতজন পোলিং এজেন্ট লাগবে? পোলিং এজেন্ট কি ঠিক করতে পেরেছেন?

হাবিবুর রহমান: ১৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। সেখানে মোট ৮২ জন পোলিং এজেন্ট প্রয়োজন। এজেন্ট প্রায় চূড়ান্ত। দু-একটা বাদ আছে শিগগিরই তা ঠিক করা হবে।

ধানের শীষের কর্মী, সমর্থক ও পোলিং এজেন্টরা ভোটের দিন স্বাভাবিক কাজ করতে পারবেন বলে মনে করেন?

হাবিবুর রহমান: ধানের শীষের কিছু পোলিং এজেন্টের নাম নৌকার লোকজন জানতে পেরে হুমকি-ধমকি দিয়ে বলছে, এজেন্ট থাকতে পারবা না। সে কারণে প্রতিটা কেন্দ্রে এজেন্ট টিকিয়ে রাখতে পারব কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ এজেন্ট ধরে রাখায় এখন চ্যালেঞ্জ।

এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ আছে, তা থাকলে স্বাভাবিক ভোট হবে বলে মনে করেন কি?

হাবিবুর রহমান: আগেই বলেছি, ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে কেবল তখনই স্বাভাবিক ভোট আশা করা যায়। কিন্তু নৌকার প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন সভা-সমাবেশ থেকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হবে। নৌকা প্রতীকে সিল মারার পর কাউন্সিলরকে ভোট দিতে হবে।

তাহলে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিতে আপনি কি উদ্যোগ নিয়েছেন?

হাবিবুর রহমান: ভোটারদের সাহস জুগিয়ে চলেছি। বলেছি, এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলর প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।

নির্বাচনে প্রশাসনিক সহযোগিতার বিষয়ে বলেন।

হাবিবুর রহমান: আমার বিশ্বাসে এখন থেকে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন।

এই মুহূর্তে দর্শনার প্রধান সমস্যা কী?

হাবিবুর রহমান: এখানে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। রাস্তাঘাট ধুলোবালুতে নিমজ্জিত। এ কারণে সাধারণ মানুষ চলতে–ফিরতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

যদি নির্বাচিত হন, তাহলে উল্লেখযোগ্য কী কাজ করবেন?

হাবিবুর রহমান: মেয়র পদে আমার যে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন, এই পৌরসভাকে ঘিরে তাঁদেরও রয়েছে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা। নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবশ্যই তাঁদের পরামর্শ চাইব। পৌর পরিষদ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগে দর্শনাকে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়তে সবকিছু করা হবে। এ ছাড়া দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর বাস্তবায়ন ও দর্শনা থানাকে উপজেলায় উন্নীত করার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে চাই। এসব বাস্তবায়ন হলে দর্শনার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন