বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন মনসুর আলী। মনসুর আলী বলেন, ‘বুধবার রাতে মেয়র আঞ্জুমান আরা আমাকে বাসায় ডেকে নেন। সেখানে গেলে মেয়র আমাকে বলেন, “তুমি কী আমার বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়ছ? তোমার কাছে মিস্টার (শাহজাহান) হেরে যাওয়া মানে আমার (মেয়র) হেরে যাওয়া। তোমাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হবে।” এরপর আমি মেয়রকে বলি, ঠিক আছে। আমি ভোট করব না। কিন্তু ভোটাররা যদি ভোট দেন, তবে আমি তাঁদের কীভাবে বাধা দেব। তখন মেয়র বলেন, “তোমাকে ভোটারদের বলে দিতে হতে, যাতে তাঁরা তোমাকে ভোট না দেয়।” এরপর আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই।’ শাহজাহানের ডাকনাম মিস্টার।

সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও বেলা ১টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এরপর গণনা শুরু করে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কমিশন। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৫৯ জন। আর ভোট দিয়েছেন ৫৮ জন। গণনা শেষে সভাপতি পদে জি এম জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে শাহজাহান আলী ও সাংগঠনিক পদে নজরুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে মনসুর আলী বলেন, ‘আমি গত পৌর কর্মচারী সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। পৌরসভার কর্মচারীদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক থাকার কারণে তাঁরাই আমাকে প্রার্থী করেছেন। কিন্তু পৌরসভার সর্বোচ্চ পর্যায় নির্বাচন থেকে আমাকে সরে যেতে চাপ দেবে ভাবতে পারিনি। পরে হয়রানির কথা ভেবে নির্বাচন থেকে সরে এসেছি।’

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পৌর কর্মচারী সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন থেকে প্রার্থীকে সরে যেতে মেয়রের চাপ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবু বিষয়টি যাচাই করে দেখব।’

আর নির্ধারিত সময়ের আগে ভোট গ্রহণ শেষ করার বিষয়ে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মোট ভোটারের মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিলেন। আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের জানান, তিনি অসুস্থ। ঢাকায় অবস্থান করছেন। ভোট দিতে যেতে পারবেন না। পরে সব প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে ভোট গ্রহণ শেষ করে গণনা শুরু হরা হয়।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলার সভাপতি মনতোষ কুমার দে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তিনি (মেয়র) কোনো প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলার অধিকার রাখেন না।’

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চাপ দেওয়ার অভিযোগটি ঠিক নয়। পৌর কর্মচারী সংসদ নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক পদে যে দুই প্রার্থী নির্বাচন করছেন, তাঁরা আপন ভাই। দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝামেলা ঠেকাতে বড় ভাই শাহজাহান আলীর জন্য পদ ছেড়ে দিতে মনসুর আলীকে অনুরোধ করা হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন