default-image


কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভা নির্বাচনের এক দিন আগে মোটরসাইকেল পোড়ানোর অভিযোগে ১৯ জনের নামে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনই বিএনপির নেতা-কর্মী। আর অপর দুজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে ভৈরব থানা-পুলিশ।

মামলাটির বাদী ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার আল আমিন। তাঁর বাবার নাম বিল্লাল হোসেন। তবে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত কোনো ব্যক্তি নন। ক্ষমতাসীন দলের কোনো পদে আছেন কি না, খোদ আওয়ামী লীগের কেউ বলতে পারেননি। মামলাটি হয়েছে ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন, চুরি ও মারামারির ধারায়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ জনকে।

মামলায় প্রধান আসামি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সোহেলুর রহমানকে। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি দৈনিক দিনকালের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। অন্য আসামিরা হলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. সুজন, সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আল মামুন, পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুকিত মিয়া, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হানিফ মাহমুদ, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল, সদস্যসচিব জোবায়ের আল মামুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আঙ্গুর মিয়া, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির মোল্লা, একই ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি বাছির মোল্লা, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, একই ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবীর হোসেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রকি, বিএনপির কর্মী লোকমান হোসেন।

এ ছাড়া ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও মো. জুনায়েদ নামের দুই ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ইমতিয়াজ ও জুনায়েদ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনের সক্রিয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, গতকাল রাতে পৌর শহরের কালিপুর এলাকায় নৌকার প্রার্থী ইফতেখার হোসেনের সমর্থনে মিছিল হয়। মিছিলে মোটরসাইকেল মহড়া হয়। মিছিল চলে যাওয়ার পর একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরতে দেখা যায়। বাইকটি বেশ পুরোনো। আগুন লাগার পর পুলিশ আসে এবং এই ঘটনায় তদন্ত করে যায়। মূলত বাইক পোড়ানোর ঘটনাকে ইস্যু করে মামলাটি দাঁড় করানো হয়েছে।

মামলাটির বাদী নৌকার সমর্থক বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে নৌকার প্রচারে অংশ নিতে কালিপুরে উদ্দেশে যাওয়ার সময় আসামিরা গাড়িটির গতি রোধ করে পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটের আগের দিন একটি গায়েবি মামলা হওয়া এখন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। মামলাটি হওয়ার কারণে এখন দলের সক্রিয় নেতা-কর্মীরা আর ভোটকেন্দ্রের আশপাশে যেতে পারবেন না। অজ্ঞাতনামা আসামি থাকার কারণে প্রত্যেকে নিজেকে আসামি মনে করবেন। ফলে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার দারুণ পরিবেশ সৃষ্টি করে দেবে এই ভুয়া মামলা। এরই মধ্যে নেতা-কর্মীদের বাড়িতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। তবে মামলার বাদী আল আমিনের দাবি, কোনো দলের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি মামলাটি করেননি। নিজের জানমালের ক্ষতির বিচার চেয়েছেন মাত্র।

মামলাটির বিষয়ে নৌকার প্রার্থী ইফতেখার হোসেনের বক্তব্য, ‘রাত পোহালে ভোট। এখন আমরা ভোট নিয়ে ভাবছি। মামলা দিয়ে কয়েকজনকে আটকে যে জয় পাওয়া যাবে না, সেই সত্য আমরা ভালো করে জানি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মামলা করেছেন। এটি তাঁর অধিকারের মধ্যে পড়ে।’

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন বলেন, মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি। বাইক পোড়ানোর ঘটনাটির তদন্ত করেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

ভৈরব মর্যাদায় প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। মোট ভোটারসংখ্যা ৭৯ হাজার ৭১৩ জন। ওয়ার্ড ১২টি। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে কাল রোববার। আওয়ামী লীগের ইফতেখার হোসেন পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। বিএনপির মো. শাহিন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক। দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও ভৈরব চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি। তাঁর প্রতীক মুঠোফোন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন