default-image

বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে (সাধারণ ওয়ার্ড ১০, ১১ ও ১২) মহিলা কাউন্সিলর পদে শাশুড়ির সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন তাঁর পুত্রবধূ। বউ-শাশুড়ির ভোটযুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই ওয়ার্ডে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

এর মধ্যে শাশুড়ি মোছা. খোদেজা বেগম তিন দফায় টানা ১৭ বছর এই ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে রয়েছেন। এবার জবা ফুল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। একই ওয়ার্ডে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর বড় ছেলের বউ মোছা. রেবেকা সুলতানা ওরফে লিমা। তিনি লড়ছেন চশমা প্রতীক নিয়ে।

বউ-শাশুড়ি ছাড়া এখানে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য পাঁচ প্রার্থী হলেন মোছা. ফাতেমা বেগম (আংটি প্রতীক), মোছা. রাবেয়া খাতুন (টেলিফোন প্রতীক), বিলাসী রানী সরকার (অটোরিকশা প্রতীক), শাহিনুর (দ্বিতল বাস প্রতীক) ও আফরোজা আকতার (আনারস প্রতীক)। এর মধ্যে শাহিনুরকে বিএনপি এবং বিলাসী রানী সরকারকে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে।

শাশুড়ি মোছা. খোদেজা বেগম তিন দফায় টানা ১৭ বছর এই ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে রয়েছেন। একই ওয়ার্ডে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর বড় ছেলের বউ মোছা. রেবেকা সুলতানা ওরফে লিমা।

তবে এই প্রার্থীদের ছাপিয়ে ভোটারদের আলোচনা সরগরম বউ-শাশুড়ির লড়াই নিয়ে। সাতসকাল থেকে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এই দুই প্রার্থী। একজন এ পাড়ায় ভোট চাইতে গেলে অন্যজন আরেক পাড়ায় গিয়ে ভোট চাইছেন। পুত্রবধূ রেবেকা সুলতানা বলছেন, শাশুড়ির কাছে থেকে শেখা নির্বাচনী ‘কৌশল’ কাজে লাগিয়ে এই ভোটযুদ্ধে চমক দেখাতে চান তিনি। অন্যদিকে শাশুড়ি খোদেজা বেগম বলছেন, পারিবারিক বিরোধ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে পুত্রবধূ প্রার্থী হয়েছেন। তবে এ নিয়ে চিন্তিত নন তিনি।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, বউ-শাশুড়ি দুজনেই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশায় সমানে সমান। দুজনই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁদের পেশা গৃহিণী। পুত্রবধূর চেয়ে সম্পদে কিছুটা এগিয়ে শাশুড়ি।

বিজ্ঞাপন

এলাকার ভোটাররা জানান, শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী মোছা. খোদেজা বেগম বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে টানা ১৭ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন। বগুড়া পৌরসভার এবারের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড় আলমগীর হাসান। তিনি যুবদল কর্মী এবং বগুড়া জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তবে মায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন তাঁর স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও।

default-image

মালতিনগর এলাকার ভোটার শবনম মুস্তারি (৩৮) বলেন, দুপুরে পুত্রবধূ ভোট চাইতে এলে বিকেলে আসছেন শাশুড়ি। বউ-শাশুড়ির ভোটযুদ্ধ চমক সৃষ্টি করেছে।

আজ সোমবার দুপুরে ঠনঠনিয়া এলাকায় ভোটের প্রচারণা চালানোর সময় কথা হয় শাশুড়ি খোদেজা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তিন দফায় ১৭ বছর ধরে কাউন্সিলর পদে থেকে সাধারণ মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়েছি। এলাকায় প্রচুর সমর্থক আছে। ছেলের সঙ্গে পারিবারিক একটু ঝামেলা আছে। এর জেরেই অভিমান থেকে বড় ছেলে তাঁর বউকে আমার বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছেন।’

বড় ছেলের সঙ্গে পারিবারিক একটু ঝামেলা আছে। এর জেরেই সে তাঁর বউকে আমার বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছেন। ছেলের বউ প্রার্থী হলেও আমার নিজস্ব ভোট কমবে না। ভোটাররা চশমা পরবেন না, জবা ফুল মার্কাতে ভোট দেবেন।
খোদেজা বেগম, কাউন্সিলার প্রার্থী

খোদেজা বেগম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ছেলের বউ প্রার্থী হলেও তাঁর নিজস্ব ভোট কমবে না। ভোটাররা চশমা পরবেন না, জবা ফুল মার্কাতে ভোট দেবেন।

তবে শাশুড়ির দাবি হেসে উড়িয়ে দেন পুত্রবধূ রেবেকা বেগম। তিনি বলেন, ‘শাশুড়ির সঙ্গে থেকে এত দিন ভোট করেছি, তাঁর সঙ্গে ভোটারের কাছে গেছি। ভোটের মাঠে পথঘাট সব চেনা। কীভাবে ভোট টানতে হয়, সেই কৌশলও জানা আছে। শাশুড়ির কাছ থেকে শেখা ভোটের কৌশল কাজে লাগিয়ে চমক দেখাতে চাই।’

শাশুড়ির সঙ্গে থেকে এত দিন ভোট করেছি, তাঁর সঙ্গে ভোটারের কাছে গেছি। ভোটের মাঠে পথঘাট সব চেনা। কীভাবে ভোট টানতে হয়, সেই কৌশলও জানা আছে।
রেবেকা বেগম, কাউন্সিলার প্রার্থী

খোদেজা বেগমের বড় ছেলে আলমগীর হাসান বলেন, ‘আম্মা ১৭ বছর কাউন্সিলর ছিলেন। এখন বয়স হয়েছে। তিনি অসুস্থও। এ জন্য পারিবারিক বৈঠকে আম্মা ঘোষণা দেন, তিনি আর ভোট করবেন না। আমার বউকে তাঁর চেয়ারে বসাবেন। সেই অনুযায়ী ব্যানার-পোস্টার সব তৈরি করা হয়। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে এলে আমার ছোট ভাইয়ের চাপে পড়ে ঘোষণা দেন, আবারও প্রার্থী হবেন। আমার বউ মায়ের চেয়ারে বসুক, সেটা ছোট ভাইয়ের সহ্য হচ্ছে না। এ জন্য তিনি আমার বউকে ঠেকাতে চান। বাধ্য হয়ে প্রায় ৫০০ ভোটার এসে আম্মার বদলে আমার স্ত্রীকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করেন। আম্মা কথা দিয়ে কথা রাখেননি। তিনি ছোট ছেলের চাপে পড়ে প্রার্থী হয়েছেন। আমিও ভোটারদের চাপে পড়ে আমার স্ত্রীকে প্রার্থী করেছি।’

default-image

ভোটের মাঠে স্ত্রীর অবস্থান ভালো জানিয়ে আলমগীর হাসান বলেন, ‘জবা ফুল সব শুকে গ্যাচে। এডা আর মানুষের কাজে লাগবি লয়। ভোটাররা চশমা পড়ে সেন্টারত আসিয়া ভোট দিবি ঠাসিয়া।’

জবা ফুল সব শুকে গ্যাচে। এডা আর মানুষের কাজে লাগবি লয়। ভোটাররা চশমা পড়ে সেন্টারত আসিয়া ভোট দিবি ঠাসিয়া।
আলমগীর হাসান, কাউন্সিলার প্রার্থী খোদেজা বেগমের বড় ছেলে ও রেবেকা সুলতানার স্বামী

অবশ্য ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বড় ভাইয়ের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আম্মা তিন দফায় ১৭ বছর ধরে এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে আছেন। তাঁর অন্য রকম জনপ্রিয়তা আছে। আম্মার বিরুদ্ধে বড় ভাই তাঁর স্ত্রীকে প্রার্থী দাঁড় করালেও আমাদের নিজস্ব কোনো ভোট টানতে পারবে না। বড়জোর ১০০-১৫০ ভোট হয়তো কমবে।’

পঞ্চম ধাপে ২৮ ফেব্রুয়ারি বগুড়া পৌরসভায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু ওবায়দুল হাসান ববি (নৌকা প্রতীক), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী পরিবহন ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান (জগ প্রতীক) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল মতিন (হাতপাখা প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র ছাড়াও পৌরসভার ২১টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩০ জন এবং ৭টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন