বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আতাউর রহমান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বরিশালে আগের দুই ধাপে ভোট অনেকটা সুষ্ঠু হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে ভোটের ব্যাপারে আগ্রহ বেড়েছে। এই ধারাবাহিকতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে মানুষ কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবে—আমরা সেটাই চাই।’

রহমতপুর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর সবাই মাঠে সরব আছেন। উঠান বৈঠক, দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনাও করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মুহাম্মাদ আক্তার উজ জামান, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহমুদ, ওয়ার্কার্স পার্টির শাহিন হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল হাকিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাঁচজনই মাঠে রয়েছেন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ভোট কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক শিক্ষক মোতালেব মিয়া বললেন, ‘এবার তো সব ইউনিয়নের ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এখানেও তেমন প্রত্যাশা আমাদের। নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন, এটা অবস্থা দেখেই বোঝা যায়। এমন পরিবেশ সৃষ্টি হলে রহমতপুর ইউপিতে একজন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হবেন। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকে, তবে এই সুষ্ঠু ভোট উপহার দেওয়া সম্ভব।’

কয়েকজন ভোটার জানান, রহমতপুর ইউনিয়নটি নদীভাঙনকবলিত। অনেক পরিবার নদীভাঙনে নিঃস্ব। অনেক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। বিগত দিনে জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেননি। রাস্তাঘাটেরও সংস্কার করা প্রয়োজন। ভোটের আগে আশ্বাস দেন প্রার্থীরা। নির্বাচিত হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না।

টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ

ভোটের প্রচারণা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মৃধা মুহাম্মাদ আক্তার উজ জামান দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করেছেন।

মুহাম্মাদ আক্তার উজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমি ৫০ ভোটে হেরেছি। আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে। আমার টাকা নেই। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে ভোট কিনছেন। কয়েক দিন আগে খিচুড়ি রান্না করে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। তখন প্রশাসন খিচুড়ির ডেক জব্দ করে।’

এই অভিযোগ অস্বীকার করে সরোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘আমার ভোট কেনার প্রয়োজন নেই। জনগণ আমার সঙ্গে আছে।’ তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমার সমর্থকদের ভয়ভীতি এবং কর্মীদের তাঁর ওয়ার্ডে প্রচার চালাতে বাধা দিচ্ছেন।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ইউপিতে এবারই প্রথম ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। আশা করি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব প্রার্থীর সমান সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেটা বজায় থাকবে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে অবশ্যই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন