বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সীমান্ত থেকে ভারতের শিলিগুড়ির দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে ভারতের দার্জিলিংয়ের দূরত্ব প্রায় ৭৭ কিলোমিটার। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পঞ্চগড়ে আসছেন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে। পঞ্চগড় শহর থেকে তেঁতুলিয়া যাওয়ার পথে অনেককেই গাড়ি থামিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি তুলতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ছুটে যাচ্ছেন তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলোতে মহানন্দা নদীর তীরে। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোসংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়ালে সবচেয়ে ভালো করে দেখা যায় সূর্যের বর্ণিল আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই শৃঙ্গ। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডাকবাংলো এলাকায় বসছে প্রকৃতিপ্রেমীদের আড্ডা।

default-image

বাড়ছে পর্যটকের স্রোত

হিমালয়কন্যা খ্যাত দেশের সর্ব–উত্তরের জনপদে শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনই নয়, এখানে এসে পর্যটকেরা উপভোগ করছেন আগাম শীত। সন্ধ্যা নামার আগে তেঁতুলিয়ার মহানন্দার তীরে যেমন ভিন্নরূপের কাঞ্চনজঙ্ঘা হৃদয় কাড়ে, তেমনি হিমালয় থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস দোলা দিয়ে যায় পর্যটকদের মনে।

কাঞ্চনজঙ্ঘাকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া পর্যটকমুখর হয়ে ওঠায় এখানে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল, রিকশা-ভ্যান আর ইজিবাইকের মতো ছোট যানবাহনগুলো। পঞ্চগড় শহর ও তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের সরকারি গেস্টহাউসগুলোর পাশাপাশি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বেসরকারি আবাসিক হোটেলগুলোও। খাবারের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ। বাইরের মানুষের এমন আসা-যাওয়ায় আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।

নাটোর থেকে তেঁতুলিয়ায় বেড়াতে আসা মেহেদী হাসান বলেন, ‘এতদিন শুধু শুনেছি পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এবার নিজের চোখে দেখে অবাক হলাম। সত্যিই কাঞ্চনজঙ্ঘার এই দৃশ্য মোহনীয়।’

তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের বাংলা হোটেল ও রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুল বলেন, ‘গত বছর কাঞ্চনজঙ্ঘা বেশি দিন ধরে দেখা গিয়েছিল। এ জন্য আমাদের বিক্রিও ছিল প্রচুর। এবারের সেপ্টেম্বর মাসে দুই-তিন দিন দেখা দিয়ে আর খবর ছিল না। এখন আবারও দেখা যাচ্ছে। এ জন্য আমাদের বিক্রিও বাড়তে শুরু করেছে।’

default-image

পঞ্চগড় জেলা পরিবেশ পরিষদের সভাপতি এবং পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রধান তৌহিদুল বারী বলেন, ‘গত বছর করোনার বিধিনিষেধে বায়ুদূষণ কম হওয়ায় আমরা একটি স্বচ্ছ আবহাওয়া পেয়েছিলাম। যার কল্যাণে আমরা এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করেছি। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন-রাতের তাপমাত্রায় ব্যাপক পার্থক্যের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কুয়াশা বাড়ছে। বেশি কুয়াশা থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা বেশিক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে দুই দিন ধরে আবার দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।’

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ে আসা পর্যটকেরা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন বা বিপদে না পড়েন, সে জন্য টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে।

কীভাবে যাবেন, কোথা থেকে দেখবেন

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব ৪৫৭ কিলোমিটার। আর চট্টগ্রাম থেকে দূরত্ব ৮০০ কিলোমিটার। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সড়কপথেই এসি বা নন-এসি বাসে আসা যায় পঞ্চগড় তথা তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। রেলপথেও আসা যায় পঞ্চগড় পর্যন্ত। রেলপথে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে। পঞ্চগড়-রাজশাহী রুটে চলে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস। এ ছাড়া আকাশপথে আসতে চাইলে আসতে হবে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পর্যন্ত। সেখান থেকে পঞ্চগড়ে আসতে হবে সড়কপথে। জাতীয় মহাসড়ক থাকায় বাস কিংবা অন্য যেকোনো যানবাহনে পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরে আসতে পারবেন খুব সহজে। তেঁতুলিয়া উপজেলা শহর থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যেই পাবেন ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো। এই ডাকবাংলো ঘেঁষেই বয়ে গেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বিভক্ত করা মনোমুগ্ধকর নদী মহানন্দা। ব্যক্তিগত বা রিজার্ভ গাড়িতে সরাসরি যাওয়া যায় এই ডাকবাংলো ও মহানন্দার পাড়ে। এরপর বাসে তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরে। সেখান থেকে ইজিবাইকে মহানন্দার পাড়ে যাওয়া যায় সহজে। জেলা শহর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছে রাতযাপনের ব্যবস্থা।

পঞ্চগড় জেলা শহরসংলগ্ন করতোয়া সেতুতে দাঁড়ালে কিংবা শহরের কোনো উঁচু দালানে দাঁড়িয়ে উত্তরের মেঘমুক্ত আকাশে তাকালেই দেখা মিলবে কাঞ্চনজঙ্ঘার। এ ছাড়া পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া যাওয়ার পথে সড়ক থেকেই কখনো সামনে, কখনো ডানে আবার কখনো বাঁয়ে দেখা মিলবে মন মাতানো কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য। একবারে সুস্পষ্ট কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চাইলে যেতে হবে তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলোয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন