প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় চর ভেদুরিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের বাড়িতে নৌকার উঠান বৈঠক ছিল। ওই বৈঠক থেকে সিরাজ গোলদারের সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে আরেক সদস্য প্রার্থী নুরুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে গিয়ে নাচানাচি করতে শুরু করেন। এ সময় নুরুল ইসলামের সাত থেকে আটজন কর্মী নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় সিরাজ গোলদারের মেয়ে রিমা বেগমের সঙ্গে নুরুল ইসলামের এক কর্মীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সিরাজ গোলদারের সমর্থকদের মিছিলে কেউ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এর পর রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা চলে। বাড়িঘরে ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর হয়। খবর পেয়ে প্রথমে ভেলুমিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও তারা পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি। পরে ভোলা পুলিশ লাইন ও ভোলা সদর থানা থেকে দুই দফায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

default-image

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় স্থানীয় বাসিন্দা মাইনুদ্দিন, আরিফ ব্যাপারী, মো. ফিরোজের বাড়ি ও মো. আলাউদ্দিন, আবদুর রব ও আমির হোসেনের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আহত ব্যক্তিদের ভোলা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, গতকাল রাতে সিরাজ গোলদারের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালান। সিরাজ গোলদার তাঁর বাড়িতে ইটের টুকরা ও বালু দিয়ে ব্লক তৈরি করে মজুত রেখেছেন। গতকাল রাতে এলোপাতাড়িভাবে ইটের টুকরা নিক্ষেপ করে তাঁর ৩৩ জন কর্মীকে আহত করা হয়েছে। ওই ইটের টুকরা এখনো আছে। ক্ষমতা ও টাকার দাপটে তাঁকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সিরাজ গোলদার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, গতকাল রাতে উঠান বৈঠক থেকে নৌকা প্রতীকের মিছিল নিয়ে তাঁর কর্মীরা এলাকায় ফিরে আসেন। এ সময় তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা নেচে-গেয়ে মিছিল করছিল। এ সময় নুরুল ইসলামের লোকজন মিছিলকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে তাঁর ২০ থেকে ২২ জন কর্মী আহত হন। যেকোনো সময় হামলা হতে পারে বলে তাঁর ভোটাররা শঙ্কিত বলে তিনি দাবি করেন।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিন দফায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় দুপক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন