বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ভোলা শহর ঘুরে দেখা যায়, দুপুরে খাবার আর ওষুধের দোকান ছাড়া কিছু খোলা নেই। বেলা একটু পশ্চিমে হেলতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। বিকেল চারটা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঝুমবৃষ্টি ঝরেছে বার কয়েক। তারপরে আকাশ ফরসা। বৃষ্টি শেষে জমে ওঠে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে বসা চটপটির দোকানগুলো। এখানে জেলা পরিষদ চত্বরে মাঝারি ধরনের ভিড় ছিল।

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব এস এম বাহাউদ্দিন বলেন, বিকেল কাটানোর চমৎকার স্থান ভোলা জেলা পরিষদ চত্বর। এখানে দূরদূরান্ত থেকে লোক আসে, ঈদ উপলক্ষে যার সংখ্যা বেড়ে গেছে।

ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট থেকে দক্ষিণে নাছিরমাঝি পর্যন্ত মেঘনা তীরে ব্লকবাঁধ। মে মাসে মেঘনা হয়ে ওঠে আরও উত্তাল। সাগরের মতো এদিক-ওদিক জলরাশি ছাড়া কিছু দেখা যায় না।

default-image

আবদুল হালিম পরিবার-পরিজনসহ ১৫-১৬ জনের একটি দল নিয়ে ভোলা শহর থেকে ঘুরতে এসেছেন তুলাতুলি মেঘনা তীরে। তিনি বলেন, এ ইউনিয়নেই (ধনিয়া) তাঁদের গ্রামের বাড়ি। ঈদে গ্রামে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। সেই সঙ্গে নদীর নির্মল হাওয়া সেবনের জন্য এসেছেন। করোনায় তো সব ঘরবন্দী। তাই একটু...।

ভোলার শাহাবাজপুর পিকনিক স্পটে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী জুয়েল সাহা বলেন, প্রতিবছর ভোলার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে এবার মানুষ কম।

তবে তুলাতুলি শাহাবাজপুর পিকনিক স্পটের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক মো. দুলাল বললেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পর্যটন স্পট সাজিয়েছি। জানি না খরচ উঠবে কি না। ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা খুবই কম।’

default-image

চরফ্যাশন উপজেলার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও মানুষের ভিড় ছিল। চরফ্যাশনের বাসিন্দা একরামুল আলম বলেন, বেতুয়া পর্যটন এলাকায় শত শত মোটরসাইকেল, রিকশা, মাইক্রোবাসে করে আসছেন দর্শনার্থীরা। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। উপজেলার বেতুয়া পয়েন্টে কয়েক হাজার লোকের সমাগম। তাঁরা কেউ নদীতে ট্রলার ও স্পিডবোটে ঘুরছেন। আবার কেউ তীরে দাঁড়িয়ে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ছোট-ছোট বাচ্চা-শিশু নিয়ে অনেকে ঘুরতে এসেছেন।

একরামুল আরও জানান, বেতুয়ার মতো একই চিত্র জ্যাকব টাওয়ার ও শেখ রাসেল শিশু পার্ক এলাকায়। সেখানেও অসংখ্য লোকের সমাগম। তবে টাওয়ারে ওঠা ও পার্কে প্রবেশ বন্ধ থাকায় অনেক দর্শনার্থী হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, কিছু স্পটে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলোতেও যাবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক তৌফিক ইলাহী চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে দর্শনার্থীদের সচেতন করা হচ্ছে, যা চলমান থাকবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন