সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ মার্চ সকাল ১০টার দিকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস এলাকার তিরাইল-মাঝগ্রাম সড়কে অজ্ঞাতনামা এক তরুণের লাশ পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, লাশটি ভ্যানচালক ইয়ামিন সরকারের। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশের একাধিক সংস্থা। তদন্তকালে আন্তজেলা অটোচার্জার ভ্যান ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য রনি হোসেন (২৩) ও স্বপন শেখকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২৩ এপ্রিল রনি হোসেনকে বড়াইগ্রাম আমলি আদালতে হাজির করলে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এতে রনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি স্বপন শেখকে সঙ্গে নিয়ে বনপাড়া বাইপাসে যান। সন্ধ্যার পর তাঁরা ইয়ামিন সরকারের ভ্যান ভাড়া করে তিরাইল-মাঝগ্রাম সড়ক হয়ে নিরিবিলি পার্কের দিকে যেতে শুরু করেন। পথে একটি কালভার্টের ওপর পৌঁছানোমাত্র তাঁরা ইয়ামিনের গলায় গামছা ও দড়ি পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ভ্যানটি নিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ভ্যানটি আসামি স্বপনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রনি হোসেন বড়াইগ্রামের ফলবিত গ্রামের সুলতান প্রামাণিকের ছেলে এবং স্বপন শেখ একই উপজেলার জলন্দা গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে। তাঁদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা যাত্রী বেশে ভ্যানে উঠে সুযোগমতো চালককে হতাহত করে ভ্যান ছিনতাই করেন এবং পরে ওই ভ্যান কম দামে বিক্রি করে দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নাটোর কার্যালয়ের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন