default-image

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ভোগাই নদ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সহযোগিতা করায় এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করা হয়েছে।

আহত যুবকের নাম মো. শওকত আলী (৩৫)। তিনি উপজেলার গোবিন্দনগর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার গোবিন্দনগর রাবার ড্যাম এলাকায় ভোগাই নদ থেকে পাঁচটি শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। এর ফলে নদের বাঁধ ও গোবিন্দনগর গ্রাম থেকে রাবার ড্যাম বাজারে যাতায়াতের ১ কিলোমিটার সড়কে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার বললেও কোনো কাজ হয়নি। পরে তাঁরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।

গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুল আলমের নেতৃত্বে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি শ্যালো মেশিন ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পাঁচটি পয়েন্টে উত্তোলিত প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের বালু জব্দ করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ বালুর বিভিন্ন পয়েন্টে যেতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন শওকত আলী। এতে বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তিরা শওকতের প্রতি ক্ষিপ্ত হন।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার বিকেল চারটার দিকে শওকত আলী রাবার ড্যাম বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে জামিরাকান্দা গ্রামের বাবু মিয়া (২২), মাহবুব আলী (২৮), মো. হেজবুল্লাহ ও আরিফ হোসেন (৩২) তাঁকে মারধর করেন। তখন শওকতের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। বুধবার রাতে শওকতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ইউএনও মাহফুজুল আলম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শওকতের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সকালে শওকত বাদী হয়ে থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। শওকত আলী বলেন, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউএনও স্যার তাঁকে বালু উত্তোলনের পয়েন্টগুলো দেখিয়ে দিতে বলেছিলেন। তাই বালু উত্তোলনকারীরা তাঁর প্রতি ক্ষিপ্ত হন। তিনি এর বিচার চান।

অভিযুক্ত বাবু, মাহবুব, হেজবুল্লাহ ও আরিফের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সবার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ইউএনও বলেন, প্রশাসনকে সহযোগিতা করায় ওই যুবককে মারধর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

মন্তব্য পড়ুন 0