বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই বাড়ির গৃহকর্মী অনিতা সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এই বাড়িতে রান্নার কাজ করি। মানুষজন আমাকেও ভয় দেখায়। গতকাল দুপুরে হৃদয় স্যারের জামিন হওয়ার কথা সবাই জানত। ওই সময় বাসায় কেউ ছিল না। হঠাৎ বাসায় তিনজন ঢুকে বলেন, কিরে বাড়িতে আসছোস?’

গতকাল রোববার বিকেলে কারামুক্ত হওয়ার পর পরই হৃদয় মণ্ডল ঢাকায় তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় সেখানে থেকে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। হৃদয় মণ্ডলের স্কুল বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে তাঁর ছেলে শ্রেষ্ঠ মণ্ডল। ২০ দিন পর আজ সে স্কুলে গিয়েছে। অনেক দিন পর স্কুলে যেতে পেরে শ্রেষ্ঠ বেশ খুশি।

শ্রেষ্ঠ বলে, বাবা জেল থেকে ছাড়া পাওয়ায় সে খুব খুশি। ২০ দিন পর স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সবাই খোঁজখবর নিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক ক্লাসে এসেও তাঁর খোঁজ নিয়েছেন বলে জানায় সে।

তবে গেল ২০ দিন বিভীষিকাময় সময় পার করেছে শ্রেষ্ঠ। তিরস্কার আর বিভিন্ন কটূক্তি থেকে শিশুটি বাদ পড়েনি। শ্রেষ্ঠ বলে, ‘বাবাকে জেলে নেওয়ার পর মানুষ আমাদের নানা কথা বলত।বাইরে দেখলেই আসামির ছেলে বলে ডাকত। কারা যেন বাড়ির সামনে এসে গেটের মধ্যে লাথি দিত, ধাক্কা দিত। ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতাম না। বাবা যে কয় দিন জেলে ছিলেন, সেই কয় দিন স্কুলেও যেতে পারিনি।’

শ্রেষ্ঠ মণ্ডলের মামা বাদল হালদার বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক শ্রেষ্ঠকে ক্লাসে নিয়ে যান। ক্লাস শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রেষ্ঠ বাসায় ফিরেছে।

বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গত ২০ দিন শ্রেষ্ঠ মণ্ডল বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল। তবে গতকাল হৃদয় মণ্ডল জামিন পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সবুজ বাড়ৈ শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ে নিয়ে আসবেন এবং নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেবেন। এ ছাড়া ক্লাসের বাইরে তিনি শ্রেষ্ঠকে কাউন্সেলিং করবেন।

হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের ক্লাসে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছেন। তিনি চাইলেই যেকোনো সময় ক্লাস শুরু করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির মানবিক শাখার বিজ্ঞানের ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। সেখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের পক্ষে-বিপক্ষে কথোপকথন হয়। কোনো এক শিক্ষার্থী ওই কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীনকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক সে দিনই হৃদয় চন্দ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে বলেন। পরে ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা করেন। এর আগে গত ২৩ ও ২৮ মার্চ আদালতে তাঁর জামিন চাওয়া হয়েছিল। সে সময় আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। পরে গতকাল রোববার আদালতের আদেশে জামিন পেয়ে হৃদয় মণ্ডল কারামুক্ত হয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন