default-image

ভ্যানে করে বের হয়েছিলেন বৃদ্ধা। হঠাৎ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি। আশপাশে যারা ছিলেন, যে যার মতো পালিয়ে যান। পালাতে পারেননি বৃদ্ধা আর তাঁর ভ্যানের চালক। ভয় পেয়ে যান তাঁরা। করোনাভাইরাসের কারণে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশে মানেননি। এই বুঝি দণ্ড ঘোষণা করলেন ইউএনও। কিন্তু ইউএনও কাছে গিয়ে শুনলেন অসহায়ত্বের কথা। এরপর নিজের গাড়ি থেকে খাদ্যের প্যাকেট এনে বৃদ্ধার হাতে তুলে দেন। আর পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করে দেন ভ্যানচালকের হাতে। আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারিভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা আছে। তা তদারকির জন্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে আজ দুপুরে বের হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ আহম্মেদ। বেলা একটার দিকে ভবানীগঞ্জ বাজারের বেশ কয়েকজন ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় ইউএনওর গাড়িটি ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি লক্ষ্য করে ইউএনও গাড়িটি হাইস্কুল ফটকের সামনে থামান। এতে ভয় পেয়ে গিয়ে লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। অনেকেই পালিয়ে যান। তবে কয়েকজন তরুণ এবং ভ্যানগাড়ির আরোহী বৃদ্ধা ও ভ্যানচালক আর আড়াল হতে পারেনি।

ইউএনও গাড়ি থেকে নেমে আসেন। তরুণদের কাছে নির্দেশনা অমান্য করে ঘরের বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চান। যাঁরা যৌক্তিক কারণ দেখাতে সক্ষম হন, তাঁদের দ্রুত প্রয়োজন সেরে বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেননি দুই তরুণ। তাঁদের একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১০০ টাকা জরিমানা করেন ইউএনও। আরেকজনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

এরপর ইউএনও যান ভ্যানগাড়ির কাছে। তাঁদের কাছেও কারণ জানতে চান তিনি। এ সময় ভ্যানে থাকা বৃদ্ধা জানান, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত। অসহায় হয়ে পড়ায় টাকার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়েছেন। একা পথে বেরোনোর সামর্থ্য নেই। তাই ভ্যানে করে এসেছেন। এসব কথা শোনার পর ইউএনও নিজের গাড়ির কাছে ফিরে যান। গাড়িতে থাকা ১০ কেজি চালের একটি থলে নিয়ে ফেরেন। সেটি তুলে দেন বৃদ্ধার হাতে। এরপর নিজের পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করেন। সেটি তুলে দেন ভ্যানচালকের হাতে। বৃদ্ধাকে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আরও সহায়তা করারও আশ্বাস দেন ইউএনও। এতে অবাক হয়ে যান বৃদ্ধা ও ভ্যানচালক।

ওই বৃদ্ধার বাড়ি ভবানীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর একডালা গ্রামে। ঘটনার সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর এক মেয়ে। তিনি বলেন, ‘ভাবছিলাম আমাদের অপমান বা জরিমানা করা হবে। উল্টো আমাদের কথা শুনে সহায়তার পাশাপাশি কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো। আমরা অবাক হয়েছি।

ভ্যানচালক আকবর হোসেন বলেন, নির্দেশনা না মেনে তিনি ভ্যান নিয়ে বাইরে এসেছেন। তিনিও ভাবছিলেন, এ কারণে হয়তো তাঁকে জরিমানা করা হবে। অভাবের কথা শুনে তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভ্যানগাড়ি চালিয়ে সংসার চালিয়ে আসছেন। তবে করোনাভাইরাসের কারণে বেশ কয়েক দিন ধরে বাড়িতেই ছিলেন। পেটের তাগিদে আজ বাইরে বের হন। কিন্তু লোকজন না থাকায় ভাড়া পাচ্ছিলেন না। তাই এই বৃদ্ধাকে ভ্যানে তুলে নেন। ইউএনওর ব্যবহারে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

ইউএনও শরিফ আহম্মেদ বলেন, যাঁরা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা বলছেন তাঁদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারি সহায়তা করছেন। সরকারি নির্দেশনা মেনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন