অনুষ্ঠানে বক্তারা মজার মজার সব উদাহরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার চর্চার আহ্বান জানান। শিশুরাও দিবসের প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৈষম্য কমিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, তুমি ক্লাসের প্রথম। এসেছ দেরিতে। তবু তুমি সামনের বেঞ্চেই বসবে। আগে যে বসেছিল তাকে পাঠাবে পেছনের বেঞ্চে অথবা গরিব সহপাঠী বলে তার থেকে দূরে থাকবে, শ্রেণিকক্ষের এই বৈষম্যই পরবর্তী সময়ে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এখন থেকেই এ ধরনের মনোভাব ত্যাগ করে তোমাদেরই বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর। অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক রহমান রাজু ও জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তাজমিনা সুলতানা, সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা মার্জিয়া, ফাতেমা তুজ্জোহরা ও মেহনাজ আক্তার।

অতিথিদের পেয়ে শিক্ষার্থী নাফিসা মার্জিয়া প্রশ্ন করে, ‘আমার যে ভালো কাজটা করার ইচ্ছা করছে, বাবা যদি সেটা করতে না দেয় তাহলে কী করব।’ এই প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘তোমরা যদি সেটা বুঝতে পারো, তাহলে এখনই তোমাদের শপথ নিতে হবে তোমরা তোমাদের বাচ্চাদের এই ইচ্ছা পূরণ করবে। তাহলে আগামী প্রজন্মের বাচ্চাদের আর এই সমস্যা থাকবে না।’

তাঁর সঙ্গে যোগ করে আরেক অতিথি রহমান রাজু বলেন, ‘তোমাকে নিরপেক্ষভাবে ভাবতে হবে তুমি দুষ্টমি করতে চাইছ নাকি ভালো কাজ করতে চাইছ, যেটা তোমার বাবা করতে দিতে চায় না। হয়তো একশ্রেণির মা–বাবা আছে তারা সব সময়ই ‘না’ বলবে। সেখানে তোমাকে ছোট্ট একটা কৌশল করতে হবে। বলতে হবে সবাই বলে আমি ভালো আবৃত্তি করি কিন্তু আমার ইচ্ছে করে না। আমি এই অনুষ্ঠানেই যাব না। তখন বাবা-মাই জোর করে পাঠাবে।’

শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে অনুষ্ঠানে প্রথম আলো নির্মিত ঘোড়সওয়ার তাসামিনা, সাত সাহসীসহ বিভিন্ন প্রমাণ্যচিত্র দেখানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন