বিজ্ঞাপন

দুয়ারিয়া ইউনিয়নে কর্মরত শ্রমিক উজির সরকার বলেন, ‘৪০ দিন অন্তর মজুরি তুলে সংসার চালাই। এবারের ঈদের খরচও মজুরি বিল থেকে করার কথা ছিল। কিন্তু বিল জমা দেওয়ার পরও আমরা মজুরি পাইনি। ফলে আমাদের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।’ একই ইউনিয়নের শ্রমিক আছান মোল্লা বলেন, ‘মজুরি না পাইয়া এখন বউ-ছ্যালিক তিনবেলা খাওয়াতে পারছি না। ঈদের দিনও হয়তো না খায়া থাকতে হবি।’
কদিমচিলান ইউনিয়নের দুটি প্রকল্পের সভাপতি শারমিন আক্তার ও আলাল উদ্দিন এবং দুয়ারিয়া ইউনিয়নের একটি প্রকল্পের সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, উপজেলায় বিল জমা দেওয়ার পরও টাকা পাননি তাঁরা। যে প্রকল্পে ৪৫ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেছেন, সেখানে পিআইও ৩৫ থেকে ৪০ জনের টাকা দিতে চান। এই অন্যায় আবদার তাঁরা মানেননি। কদিমচিলান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড প্রকল্প সভাপতি কলিমুদ্দিন বলেন, ‘খেটে খাওয়া অতিদরিদ্রদের মজুরি নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা ঠিক হচ্ছে না।’

কদিমচিলান ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, ‘পিআইওর অন্যায় আবদারে রাজি না হওয়ায় তিনি বিল আটকে রেখেছেন। আমরা তো শ্রমিকদের জন্য কিছুই করতে পারছি না।’ দুয়ারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পিআইও আমাদের বিল কাটছাঁট করে সুবিধা নিতে চাচ্ছেন। আমরা তাতে রাজি না। কারণ, তিনি আমাদের শ্রমিকদের দিয়ে যখন ইউনিয়নের বাইরে কাজ করান, তখন ন্যায়-অন্যায় দেখেন না।’

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বলেন, ‘প্রকল্প সভাপতিরা বিল দাখিল করেননি বলেই মজুরি আটকে গেছে। বিল না পেলে আমি বিল পাস করব কীভাবে? তবে ঈদের পরই তাঁদের মজুরি দিয়ে দেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাম্মী আক্তার আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘কদিমচিলান ইউনিয়নের বিলে আমি স্বাক্ষর করেছি। পরে পিআইও কয়েক দিনের পারিশ্রমিক কেটে দেওয়ায় চেয়ারম্যানরা বিল গ্রহণ করেননি। দুয়ারিয়া ইউনিয়নের বিল শেষ মুহূর্তে জমা দিয়েছেন। তাই বিলটি যাচাই–বাছাই করা যায়নি এবং বিল দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন