মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০০২ সালের দিকে কামাল হাওলাদারের সঙ্গে পাশের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার হরিণপালা গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে শাহীনূর বেগমের বিয়ে হয়। ওই দম্পতির একটি ছেলে রয়েছে। শাহীনূর বেগমের বাবা–মায়ের বিচ্ছেদের কারণে শাহীনূর ফুলঝুরি গ্রামে মামা সগির শরীফের বাড়িতে বড় হয়েছেন। মূলত শাহীনূরের মামা তাঁকে কামাল হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে দেন।

বিয়ের পর থেকে শাহীনূর বেগম বিভিন্ন সময় মামা বাড়ি থেকে টাকা এনে তাঁর স্বামীকে দেন। এভাবে কামাল হাওলাদার শাহীনূরের কাছ থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক নিয়েছেন। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই কামাল হাওলাদার ব্যবসা করার জন্য স্ত্রীর কাছে আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে শাহীনূর বিষয়টি তাঁর মামাকে জানালে তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানান। এর পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন শাহীনূরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন।

২০১২ সালের ২২ জুলাই শাহীনূরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই শাহীনূরের মামা সগির শরীফ বাদী হয়ে কামাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে স্থানীয় থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই বছরের ২০ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক মৃধা ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলা চলাকালে কামাল হোসেনের বাবা আসামি আবদুর রশিদ হাওলাদার মারা যান। মামলার ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক আসামি কামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত করে রায় দেন।

মামলার অপর চার আসামি কামালের বোন মোসা. রহিমন, ভাইয়ের স্ত্রী আমেনা বেগম, ভাই জামাল হাওলাদার ও ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (বিশেষ পিপি) আবদুর রাজ্জাক খান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল কবির বলেন, ‘এ রায়ের বিরুদ্ধে আমার মক্কেল কামাল হাওলাদার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।’

মামলার বাদী সগির শরীফ বলেন, ‘আমি এ রায়ে খুশি। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন