সমাবেশের একপর্যায়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। তিনি লেক খনন ইস্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যাতে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বংশপরম্পরায় ভোগদখল করা জমিতে লেক খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, উন্নয়নের নামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জমি কেড়ে নেওয়ার জন্যই বন বিভাগ এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতাদের নামে থানায় বন কর্মকর্তারা যে অভিযোগ করেছেন, তা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দোখলা চৌরাস্তা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশও সেখানে অবস্থান নেয়। সমাবেশ চলাকালে মধুপুর থেকে উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী মোটরসাইকেল বহর নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। তাঁরা ওই এলাকায় কয়েক দফা মহড়াও দেন।

প্রসঙ্গত, বনাঞ্চলের দোখলা ও চুনিয়া গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় আমতলী বাইদ নামক স্থানে ৪৫ বিঘা জমি আছে। এ জমি ১৩ জন গারো জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বংশপরম্পরায় চাষাবাদ করছেন। ওই বাইদ এলাকার চার একর জমির মধ্যে লেক খননের উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। কিন্তু ওই জমির মালিকেরা সেখানে লেক খনন করতে সম্মত হননি। এ নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জমির মালিকদের কয়েক দফা বৈঠকও হয়।

গত শুক্রবার বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মীরা ওই জমিতে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চল, সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ, উন্নয়নমূলক কাজ চলমান, আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ’। এই সাইনবোর্ড দেখার পর স্থানীয় গারো জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। গত শনিবার রাতে কে বা কারা ওই সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে রোববার বিকেলে মধুপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে অভিযুক্ত করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন