দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে দুটি ধারা। এক পক্ষে রয়েছেন আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। আরেক পক্ষে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও মেয়র মো. মনিরুল হক। ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে মনিরুল দলের শীর্ষ পদ পাননি। তাঁর অনুসারীরাও কোনো পদ পাননি। এর পর থেকে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করে জয়ী হন। আর ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি দলীয় কার্যক্রমে একেবারেই অনুপস্থিত ছিলেন। উল্টো সরকারি দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে আসে। গত বছরের অক্টোবরে কেন্দ্রীয় বিএনপির এক সভায় অনুপস্থিত থাকায় মনিরুলকে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে জেলার পদ তাঁর রয়েছে। এবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি যাবে না বলে এখনো অনড় রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি দল থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

নিজাম উদ্দীন কায়সার বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন করতে হলে নৌকা ও মনিরুলের বলয়ের বাইরে থেকে প্রার্থী হতে হবে। কুমিল্লায় নৌকা দুটি। তলেতলে তাঁদের একটি পক্ষ মনিরুলকে সহযোগিতা করে। আমি মনিরুলকে ঠেকাতে ভোটে প্রার্থী হচ্ছি না। জেতার জন্য প্রার্থী হচ্ছি। বিএনপির নেতা–কর্মীরা আমাকেই ভোট দেবেন।’

মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ‘কুমিল্লা নগরের উন্নয়নকাজের জন্য সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। এর বাইরে আর কিছু নয়। কায়সার ছোট ভাই। সে নির্বাচন করলে আমি কী বলব? আমি নির্বাচনের জন্য মাঠ গুছিয়ে রেখেছি। মনোনয়ন ফরমও নিয়েছি। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন