প্রথম আলো: হঠাৎ উপমন্ত্রীর সামনে কেন অভিযোগ করতে গেলেন?

আবদুল মালেক: মনের দুঃখে। চোখের সামনে হাওরে জমির ধান তলাইছে। ধান লাগাইতে গিয়া ৪০ হাজার টাকা ঋণ করছি। সারা বছর সংসার চলে এই ধানে। তাই মনের কষ্টে সব মন্ত্রী সাবরে কইছি।

প্রথম আলো: ফসল রক্ষা বাঁধে কাজ ঠিকমতো হয়নি?

আবদুল মালেক: কাজ ভালো হয় নাই বইলাই তো হাওর ডুবছে। কাজে তালাবি (তদারকি) কম ছিল। এ জন্য কাজে ঢিলা (গাফিলতি) হইছে।

প্রথম আলো: যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাঁরা কি ওই দিন ঘটনাস্থলে ছিল?

আবদুল মালেক: সবাই আছিল। তাঁরা আমারে থামাইতে চাইছে। পরে মন্ত্রী সাব উল্টা তাঁরারে থামাইছে। আমার কথা শুনছে। কইছে, উপযুক্ত ব্যবস্থা নিব।

প্রথম আলো: সবার সামনে উপমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাতে ভয় করেনি?

আবদুল মালেক: আমি মরণ স্বীকার কইরাই কইছি। আমার বয়স ৬৩ বছর। আর কয় বছর বাঁচমু। মনের কষ্টে কইছি। দরকার অইলে আরও কইমু।

প্রথম আলো: ঘটনার পর কেউ কি হুমকি দিয়েছে?

আবদুল মালেক: পরদিন বাজারে কয়েকজন আটকে বলেছিল, আমি যা কইছি প্রমাণ দিতে হইব। আমি তাগো কইছি, মন্ত্রী সাবের কাছে অভিযোগ করছি। তিনি তদন্ত করবেন। তাঁরা মামলা করব শুনছি। আমি ভয় পাই না। এসব তো এলাকার সবাই জানে, ভয়ে কেউ কয় না। সবাই ডরায়। আমি একলা কই। সবাই মিলে কইলে আরও ভালা অইত।

প্রথম আলো: আপনার সন্তানেরা কিছু বলেছে?

আবদুল মালেক: পোলারা রাগ করছে। আমি তাগো (তাঁদের) বোঝাইছি। আমি আর কয় বছর বাঁচমু। আমি একলা মইরা গেলে যদি দেশে (এলাকা) শান্তি হয়, আমি মইরা গেলাম। আমি তো মিথ্যা কথা কই নাই।

প্রথম আলো: আপনাকে নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা। লোকজন কিছু বলে?

আবদুল মালেক: কয় তো। বাহবা দেয়। তয় সামনে না, আড়ালে। আমার লাগি এলাকার হাজার মানুষ দস্তখত দিব, কিন্তু সামনে আইত না। তারা চায় আমি ভইষ (মহিষ) মাইরা দেই, আর তারা খাবে।

প্রথম আলো: কৃষিকাজের বাইরে কোনো কিছু করেন?

আবদুল মালেক: না। ছেলেরা ঢাকায় গার্মেন্টে কাজে যায়। আমি জমিজমা নিয়াই থাকি।

প্রথম আলো: এলাকার কৃষকদের নিয়ে আর কোনো কিছু করার ইচ্ছা আছে?

আবদুল মালেক: সবাই আসব না। কেউ ঝামেলায় যাইতে চায় না। ডর-ভয় আছে। আসলে তো ভালো হইত। তবে আমি অন্যায় দেখলে ছাড়তাম না। কথা কইমু।

প্রথম আলো: উপমন্ত্রীকে আর কিছু বলার ছিল?

আবদুল মালেক: সময় পাইলে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে বাঁধের কাজ ভালোভাবে করার কথা কইতাম। তাইলে ফসল মাইর যাইত না। সবাই ধান পাইত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন