বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোক্তার বেগম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ নাই। শুধু আমার জানটা আছে। ভাইপুতর জাগার মইদ্যে মাইনষে ঘর বানাইয়া দিছইন (ভাইয়ের ছেলের জমিতে মানুষ ঘর বানিয়ে দিয়েছেন)। ওখানো থাকি। আল্লার গেছে (কাছে) লাখ লাখ শুকরিয়া। মরার আগে নিজ ঘরো থাকমু। কেউ ঠেলা মারতো নায়। কেউ উঠি যাও কইতো নায়। খুব খুশি অইছি।’

মোক্তার বেগমের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের আমতৈলে। ১০-১২ বছর আগে তাঁর স্বামী আবদুল কাদির মারা গেছেন। ছেলে নেই। এক মেয়ে আছে। তাঁকে বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েও দরিদ্র। তাঁকে যে দেখবেন, সে রকম অবস্থাও নেই মেয়ের। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অন্যের জমিতে তৈরি একটি ঘরে কোনোরকমে দিনাতিপাত করে আসছেন তিনি।

একই রকম অবস্থা আমতৈল গ্রামের ছানা বেগমেরও (৬০)। স্বামী সুন্দর মিয়া সাত-আট বছর আগে মারা গেছেন। ছেলে-মেয়ে নেই। স্বামীর জীবিতকাল থেকেই সরকারি খাসজমিতে ঘর বানিয়ে থাকেন। স্থানীয় লোকজনের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে কোনোরকমে চলছেন। নিজের এক টুকরা মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য স্বামী অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেটা আর তাঁর (স্বামীর) পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। ছায়া বেগম জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের এক টুকরা জমি, একটি ঘর পেয়ে দারুণ খুশি।

ছায়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জমি দিবা হুনিয়া চেয়ারম্যানকে দরখাস্ত দিছি। এখন নিজর জায়গা পাইছি। ঘর পাইছি। খুব খুশি অইছি।’ এ সময় বারবার স্বামীর কথা বলছিলেন, ‘মানুষটা নৌকার (আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক) পাগল আছলা (ছিলেন)।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৭৭৯টি ঘরের মধ্যে গতকাল ৪৯৫টি ঘর ও জমির কাগজপত্র উপকারভোগীর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ঘরগুলো দুই সপ্তাহের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন