বিজ্ঞাপন

এদিকে নগরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। তবে সেদিকে নগর ভবনের তেমন দৃষ্টি ছিল না। কয়েকটি এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর খবর শোনা গেলেও সেগুলো কেবল ‘আইওয়াশ’। এতে কমেনি মশার উপদ্রব। সম্প্রতি বর্ষা মৌসুমে মশার উৎপাত আরও বেড়েছে। প্রতিবছর ডেঙ্গু ও এডিস মশাবিষয়ক সচেতনতামূলক মাইকিং করা হলেও এবার তেমনটি শোনা যায়নি।

নগরের তালতলা এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, ‘লকডাউনের সময় বাসায় বেশি থাকা হয়েছে। সে সময় বুঝতে পেরেছি, দিনে ও রাতে সমান তালে মশার উপদ্রব। আগে দিনের বেলা কর্মক্ষেত্রে থাকায় সেটি বুঝতে পারিনি। ঘরে থাকার সময় মশারির ভেতর কিংবা কয়েল জ্বালিয়ে থাকতে হয়েছে।’

শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আলম বলেন, রাতদিন সমান তালেই মশার উপদ্রব থাকে। দিনের বেলায়ও কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়।

নগরের মির্জাজাঙ্গাল ও মাছুদীঘি পাড় এলাকার কয়েকটি দোকানেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে কয়েল ও অ্যারোসল বিক্রি আগের তুলনায় বেড়ে গেছে।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটবিষয়ক প্রয়োগ কুশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সিলেটে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবার মশকনিধনে তেমন অভিযান চালানো হয়নি। দক্ষিণ সুরমায় কয়েকটি স্থান থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় এডিস মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। টাইলস ও স্যানিটারি বিক্রি করে এমন প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাখা মালামালে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশা বংশবিস্তার করছিল বলে তাঁদের ধারণা। তিনি আরও বলেন, এডিস মশা পরিষ্কার পানিতেই বংশবিস্তার করে। এডিস মশা ডিম পাড়ার পর সেটি সহজে নষ্ট হয় না।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের এক দফায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে করোনার কারণে সেটি তেমনভাবে করা হয়ে ওঠেনি। ৮ জুলাই থেকে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন অভিযান শুরু হয়েছে। তবে সেটি ওই ওয়ার্ডে এখনো শেষ হয়নি। করোনার সংক্রমণ বাড়ার কারণে মশকনিধন অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে জানান তিনি।

জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, গত শনিবার মশার লার্ভা সংগ্রহ করে পরীক্ষার অভিযান চালানোর কথা থাকলেও টিকা কার্যক্রম ও আবহাওয়াজনিত সেটি সম্ভব হয়নি। তবে যেসব এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছিল, সেসব এলাকায় মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া কদমতলী এলাকার বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনেও মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে কীট নেই। তবে বিকল্পভাবে রক্তের পরীক্ষা করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যায়। সেই প্রস্তুতি তাঁদের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে আগেও সফলতার সঙ্গে ডেঙ্গু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজন হলে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে তিনি আরও বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটলে সামাল দেওয়া কিছুটা কষ্টসাধ্য হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন