বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী ও থানা–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে বীরেন মণ্ডলের বড় ছেলে সুজন কুমার এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার পরেও তাঁকে সুস্থ করা যায়নি। এ ঘটনার পর তাঁর মা শেফালী রানী হতাশায় ভুগছিলেন। এ ছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে শেফালী রানীর পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আজ দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শেফালী রানী প্রথমে ছেলেকে বিষ খাওয়ানোর পর নিজেও বিষ পান করেন।

বীরেন মণ্ডল জানান, দুপুর ১২টার দিকে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলেন, অন্যথায় তিনি বিষ পান করবেন বলে হুমকি দেন। বাসায় ফিরে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে অসুস্থ অবস্থায় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেল চারটার দিকে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়। নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে বিষ পান করেছেন বলে তিনি ধারণা করছেন।

স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল কি না জানতে চাইলে বীরেন মণ্ডল দাবি করেন, তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল না। তবে ছেলের দুর্ঘটনার পর পঙ্গু হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। এ কারণেই ছেলেকে হত্যার পর তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

আজ বিকেলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন চিকিৎসক গোলাম রাব্বানী। জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেলে শেফালী রানী নামের এক রোগীকে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর স্বজনেরা। তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। এ ছাড়া তাঁর ঠোঁট, হাত-পায়ের নখ ও আঙুল নীল হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়। বিষপান অথবা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পরই কেবল সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে।’

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তাঁদের লাশে বিষপানে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে হতাশা ও স্বামীর প্রতি অভিমানে ছেলেকে বিষ পান করিয়ে শেফালী রানী নিজেও বিষ পান করে আত্মহত্যা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ বিকেলে সদর হাসপাতালে যায় এবং মা–ছেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন