বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩৪ কিলোমিটার অংশে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৪ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হয়েছেন। ২০১৮ সালে ৩১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩২ জন ও আহত হয়েছেন ৪৬ জন। ২০১৯ সালে ৫৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৭ জন ও আহত হয়েছেন অন্তত ৬৭ জন। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ জন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ জন। এ সময়ে মোট দুর্ঘটনা ঘটেছে ৮৩টি। এসব দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটেছে অটোরিকশার সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। প্রতিটি দুর্ঘটনাতেই মামলা হয়েছে।

সেসব মামলার বরাত দিয়ে হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় যে ৭০ জনের প্রাণহানি হয়েছে এর মধ্যে ৩৮ জনের মৃত্যুই হয়েছে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে। গত ১৬ ডিসেম্বর আশুগঞ্জের বাহাদুরপুরে সড়ক দুঘর্টনায় দুজন, পরের দিন সরাইলের বৈশামুড়ায় তিনজন নিহত হন। এঁদের সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। গত ডিসেম্বরে এই সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত হন। এই নয়জনও সিএনজিচালিত অটোরিকশার আরোহী ছিলেন। সর্বশেষ গত মার্চে সড়কের এই অংশে আটটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের তিনজনই ছিলেন অটোরিকশার যাত্রী।

গত ২ মার্চ সকাল পৌনে সাতটার দিকে মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার রামপুর এলাকায় সিলেটগামী পণ্যবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান ও যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন প্রাণ হারান। নিহতেরা হলেন মোর্শেদা বেগম (৫০), দুদু মিয়া (৬০), ফরিদ মিয়া (৪২) ও হোসনে আরা বেগম (৫০)। এর মধ্যে মোর্শেদা বেগম, দুদু মিয়া ও ফরিদ মিয়া বিজয়নগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা স্থানীয় একটি ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। আর হোসনে আরা বেগম বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের পরিবারকল্যাণ সহকারী ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। গত মার্চ মাসেও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পাঁচজন। যাঁদের তিনজনই ছিলেন অটোরিকশার যাত্রী।

মহাসড়কের একই এলাকার বৈশামুড়ায় গত ১৭ ডিসেম্বর একটি ট্রাক ও সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংষর্ষে অটোরিকশার তিনযাত্রী প্রাণ হারান।

এসব দুর্ঘটনার জন্য হাইওয়ে পুলিশ ১৩টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সড়কের এই অংশে ১৯টি ছোটবড় ঘন ঘন বাঁক, ৬৮টি সংযোগ সড়ক, সড়কের পাশের ১০টি বাজার, ২০টি স্কুল-কলেজ, ১০টি ফিলিং স্টেশন, ইটভাটা, ইট-বালি ও কাঠের ব্যবসা, মাত্রাতিরিক্ত গতি, অনভিজ্ঞ চালক, আইন ভঙ্গকারী চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারা, বেপরোয়া গতির অবৈধ অটোরিকশা, চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালনা করা, হাইওয়ে পুলিশের যানবাহন ও জনবলসংকট ইত্যাদি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কের আশুগঞ্জের বগৈর ও খাড়িয়ালা, সরাইলের বেড়তলা, কুট্টাপাড়া মোড়, বাড়িউড়া, শাহবাজপুর, বৈশামুড়া, বিজয়নগর উপজেলার রামপুর, ইসলামপুর, শশই ও সাতবর্গ অংশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

তেল–গ্যাস–খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা সদস্যসচিব আইনজীবী মো. নাসির মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কে অবৈধ ও নিষিদ্ধ তিন চাকার যানে প্রতিনিয়তই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঝরে যাচ্ছে অনেক জীবন। এসব দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত কঠোরভাবে মহাসড়কে অবৈধ তিন চাকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুখেন্দ্র বসু প্রথম আলোকে বলেন, যানবাহন ও জনবলসংকটের কারণে মহাসড়কে পুলিশি টহল বাড়ানো যাচ্ছে না। মহাসড়কের তিন চাকার যানের চলাচল বন্ধে পুরোপুরি সক্ষম না হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যেন তিন চাকার যান চলাচল করতে না পারে সে জন্য টহলসহ মামলা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন