default-image

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকদের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ১০০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের এক নেতা একটি এবং পুলিশ অপর দুটি মামলা করে। গতকাল রোববার মামলাগুলো করা হয়।

এদিকে আজ সোমবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অভিযানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলার প্রধান আসামি মাওলানা মোকারাম হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর অন্য আসামিদের ধরার জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

হামলার পর থেকে হেফাজতের অধিকাংশ সমর্থক ও নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন। তাই তাঁদের ধরার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম, মহেশখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)

আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে ৬৭ জনকে। এ ছাড়া এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাদী হয়ে থানায় এই মামলাটি করেন। এ ছাড়া থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রোববার থানায় আরও পৃথক দুটি মামলা করে। এতে ওই দুই মামলায় হেফাজতে ইসলামের সমর্থক ৩৫ জনকে এজাহারনামীয় ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বড় মহেশখালী নতুন বাজার থেকে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলার প্রধান আসামি মাওলানা মোকারাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। আর হামলার পর শনিবার রাতেই উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক রহমান জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে এ পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

মহেশখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, মামলার আসামি হেফাজত সমর্থকদের ধরার জন্য রোববার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে এলাকায় পৃথক পৃথকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। হামলার পর থেকে হেফাজতের অধিকাংশ সমর্থক ও নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন। তাই তাঁদের ধরার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র বলছে, শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে ঘেরাওয়ের খবরে মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লাঠি-ছোরা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন হেফাজতে ইসলামের সমর্থকেরা। সেদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রথমে হেফাজতের সমর্থকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস ও থানায় হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁরা ইউএনও অফিস ও থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পর অগ্নিসংযোগ করেন। এতে অধিকাংশ আসবাব পুড়ে যায়। এ সময় অফিসের অনেক মূল্যবান কাগজপত্রও পুড়ে গেছে বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহেশখালী থানা-পুলিশের একটি দল উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে হেফাজতের সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন