default-image

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে যেখানে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে, সেখানে পাবনায় গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে মাইক্রোবাসে। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে ডেকে ডেকে যাত্রী তুলে দুই থেকে তিন গুণ ভাড়ায় যাত্রী বহন করা হচ্ছে পাবনা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে। একইভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাতেও অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

লকডাউনে গণপরিবহন, বিশেষ করে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও মানুষের দূরবর্তী এলাকায় যাতায়াত থেমে নেই। বাস চলাচল বন্ধের সুযোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুরে যাত্রী বহনে নেমে পড়েছে অসংখ্য মাইক্রোবাস। এসব মাইক্রোবাসের অনেকগুলোই সড়কে চলাচলের অনুপযোগী। স্বাভাবিক সময়ে এগুলোতে যাত্রী বহন না করে বসিয়ে রাখা হতো।

বিজ্ঞাপন

গতকাল রোববার কাশিনাথপুরে পাবনা শহরগামী মাইক্রোবাসের চালক ও সহযোগীদের ডেকে ডেকে যাত্রী তুলতে দেখা যায়। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতিটি মাইক্রোবাসে যাত্রী বোঝাই হয়ে যাচ্ছে। মাইক্রোবাসগুলোর যাত্রী ধারণক্ষমতা ১০ জন হলেও নেওয়া হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ জন। কাশিনাথপুর থেকে পাবনা পর্যন্ত বাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৬০ টাকা হলেও মাইক্রোবাসে নেওয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।

কাশিনাথপুর থেকে মাইক্রোবাসে পাবনায় যান এক ব্যাংক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, তাঁর বাসা কাশিনাথপুরে। অফিস করার জন্য প্রতিদিন তিনি পাবনা থেকে কাশিনাথপুরে যাওয়া-আসা করেন। ব্যাংক চালু থাকায় দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাঁকে। সঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী তো আছেই।

কাশিনাথপুর এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাস চলাচলের বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, দু-একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চললেও কোনো মাইক্রোবাস চলছে না। বরং এগুলো যাতে সড়কে চলাচল না করে, সে ব্যাপারে তাঁরা কঠোর দৃষ্টি রেখেছেন।

প্রসঙ্গত, জেলায় সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে জেলায় ৫৫০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত রোগী ছিলেন ২ হাজার ১২৬ জন। গতকাল রোববার তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৬৭৬ জন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন