বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বাসুদেব সাহা ঢাকার বারডেম হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর প্রফুল্ল সাহার ছেলে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এই চিকিৎসক।

ওই গাড়িতে থাকা নিহত অন্য তিনজন হলেন বাসুদেবের স্ত্রী শিবানী সাহা (৪৮) ও ছেলে আহ্‌ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী স্বপ্নিল সাহা (১৯) ও তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আজিজুর ইসলাম (৪৪)। বাসুদেবের মেয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক শর্মি সাহা পরিবারের সঙ্গে না থাকায় এ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান।

বাসুদেব সাহার অশীতিপর বাবা প্রফুল্ল সাহা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘গোপালগঞ্জে আসার পথেও আমার সঙ্গে বাসুর কথা হয়েছে। তখন ও বলেছিল, অল্প সময়ের মধ্যে চলে আসবে। এর কিছুক্ষণ পর ওর মেয়ে শর্মি সাহা আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, ও ভিডিও কলে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলছিল। এর মধ্যে হঠাৎ একটি বিকট শব্দের পর ভিডিও কলের লাইন চলে যায়। এর পর থেকে সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিল না। এ জন্য আমাকে খবর নিতে বলে শর্মি। এরপর আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে খবরটা জানতে পারি।’

গোপালগঞ্জে আসার পথে ফেরিতে নদী পার হওয়ার সময় পদ্মা সেতুর ছবিসহ স্ত্রী, ছেলের সঙ্গে সেলফি তোলেন বাসুদেব। সেসব ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে বাড়িতে যাওয়ার কথাও লেখেন। সেই বাড়িতে ফিরলেন ঠিকই, তবে নিথর দেহে। এসব কথা বলে বাসুদেবের স্মৃতি রোমন্থন করছেন তাঁর শৈশবের বন্ধুরাও।

বাসুদেবের প্রতিবেশী গোপালগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কবির বলেন, ‘বাসুদেব ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। অনেক ভালো ফুটবলও খেলতেন। তাঁর মতো ভালো মানুষ হয় না আসলে। গোপালগঞ্জ থেকে কেউ গেলে তিনি সব কাজ ফেলে আগে তাঁকে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তাঁর এ অকালমৃত্যুতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন