বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে বেগুনি ও ব্ল্যাক রাইস জাতের ধানবীজ সংগ্রহ করে বীজতলা তৈরি করা হয়। এরপর ধানের চারা রোপণ করে এই শস্যচিত্র তৈরি করেছেন এনামুল। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, হঠাৎ তাঁর মাথায় আসে বিচিত্র রঙের এ ধান গাছ দিয়ে ব্যতিক্রম কিছু করবেন। ভিটা ছাড়া তাঁর আর জমি নেই। আধা বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সেখানেই চাষ করেন।

এনামুল বলেন, শুরুতে তিনি বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু একসময় চিন্তা করেন, মাকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে সেখানে ‘মা’ শব্দটি ফুটিয়ে তুলবেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন স্থানীয় কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন।

default-image

ধানগাছ জমিতে রোপণের সময় এনামুলকে সহযোগিতা করেন বন্ধু শফিকুল ইসলাম। এনামুল হক বলেন, শুরুতে মা শব্দের আকৃতি অনুযায়ী সুতা দিয়ে জমির ওপর কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর সেখানে রোপণ করেন ব্ল্যাক রাইস জাতের সবুজ ধানের চারা। ‘মা’ শব্দের কাঠামোর বাইরে বাকি অংশে রোপণ করেন বেগুনি রঙের ধানের চারা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধানখেতে এ ধরনের শস্যচিত্র এ অঞ্চলে এটিই প্রথম। তাই লোকজনের কাছে বিষয়টি বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। এই শস্যচিত্র দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করেন। খেতের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন।

গাজীপুর সদর থেকে শস্যচিত্র দেখতে আসা ৬ জনের একটি দলের সদস্য আতাউর রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে এই শস্যচিত্রের কথা শুনেছেন। শুক্রবার ছুটি থাকায় বন্ধুদের নিয়ে তা দেখতে আসেন।

এনামুল হকের মা জোহরা বেগম ছেলের এমন উদ্যোগে বেশ আপ্লুত। শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়ির বারান্দায় বসে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে খুশি করার জন্য এইটা বানাইছে। মাইনষে এইডা দেখবার আসে। আমার সাথেও দেখা করে। এনামুলের এই কাজকে অনেকে পাগলামি মনে করলেও আমার কাছে গর্বের।’

এনামুল হক বলেন, মা শস্যচিত্রটি তৈরিতে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। আগামী মে মাসের শুরুতে জমি থেকে ধান তুলবেন বলেও জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন