বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই শিশুর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত বুধবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির আঙিনায় খেলা করছিল। এ সময় আবদুর রউফ মোল্লা তাঁর একটি ছাগল হারিয়ে গেছে জানিয়ে সেটি খুঁজে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন। এরপর মাঠের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে মুখ চেপে ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয় দেখানো হয়। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, তাঁরা এক দিন পর বৃহস্পতিবার ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর শিশুটিকে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানতে চাইলে আজ সকালে শিশুটির দাদি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনা জানার পর নানা আশঙ্কার কথা চিন্তা করে থানায় যাইনি। মুঠোফোনে চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তিনি দুজন লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। আর কার কাছে বিচার দেব? যে ঘটনা ঘটিয়েছে সে-ই তো পুলিশের সদস্য ছিল।’

অভিযোগের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবদুর রউফ মোল্লার বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে ধর্ষণ ও অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেন তাঁর ছেলে রেজাউল হক। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাবা ১৯৯৩ সালে কনস্টেবল পদ থেকে অবসরে যান। তিনি বয়স্ক মানুষ। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। এটা বানোয়াট। নানা বিষয়ে আশপাশের মানুষের সঙ্গে বিরোধিতার কারণে বাবার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’

ঘটনার পর শিশুটিকে রামনগর বাজারে যে পল্লিচিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয় তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শিশুটির পেটব্যথা ও ফোলা ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনাটি স্থানীয় কছুন্দি ইউপির চেয়ারম্যান আবুল কাসেম মোল্লাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও তিনি তা অস্বীকার করেন। ওই চেয়ারম্যান মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমি মনে করতে পারছি না। তবে তাঁরা (ভুক্তভোগী) যদি বলেন আমি লোক পাঠিয়েছিলাম, তাহলে তা ভুল। আমি তো কাউকে পাঠিয়েছি বলে মনে পড়ে না।’

জানতে চাইলে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এ রকম ঘটনা ঘটে থাকলে থানায় অভিযোগ দেওয়া উচিত। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন