মাছ, কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের নদীতে নামার প্রস্তুতি জেলেদের

নৌকা মেরামত ও রং করার কাজে ব্যস্ত জেলে পরিবারের সদস্যরা। আজ সোমবার সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের খোলপেটুয়া নদীর ধারে
ছবি: প্রথম আলো

তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের নদ-নদীতে আগামী বুধবার থেকে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অনুমতি পাচ্ছেন জেলেরা। ফলে সুন্দরবনঘেঁষা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলছে নৌকা মেরামত ও রং করার কাজ।

আজ সোমবার সকাল থেকে উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, কৈখালী ও রমজাননগর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চুন, চুনকুড়ি, মালঞ্চ ও খোলপেটুয়া নদীর ধারে সবাই নৌকা মেরামত ও রং করতে ব্যস্ত। এর মধ্যেও তাঁদের মুখে হাসির ঝিলিক। মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলায় চারদিকে উৎসবের আমেজ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের নদ-নদী থেকে সব ধরনের মাছ ও কাঁকড়া ধরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রজনন মৌসুম হিসেবে বন্ধ রাখা হয়েছিল কাঁকড়া ধরা। ফলে সুন্দরবনের মাছ ও কাঁকড়া ধরার ওপর নির্ভরশীল সম্প্রদায় সমস্যায় ছিল। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে প্রায় ১৫ হাজার জেলে পরিবার নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।

বন বিভাগের পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরার রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক স্টেশন মিলে ২ হাজার ৯০০ নৌকার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) রয়েছে। আজ পর্যন্ত ৯০ শতাংশ বিএলসি নবায়ন করা হয়ে গেছে। মঙ্গলবারের মধ্যে বাকি নৌকার বিএলসির নবায়ন করে বুধবার বনে প্রবেশ করবেন কয়েক শ জেলে।

বুড়িগোয়ালিনী গোলপেটুয়া নদীর ধারে নৌকা রং করতে দেখা গেল কয়েজনক জেলেকে। দাতিনাখালী গ্রামের আনারুল গাজী জানান, তিন মাস নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ, কাঁকড়া ধরা বন্ধ থাকায় সুন্দরবনঘেঁষা গ্রামগুলোর মানুষ বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকে ধারদেনায় জর্জরিত পড়েছে। সময় পার করছে খেয়ে না খেয়ে। এ অবস্থায় বুধবার থেকে সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অনুমতি দেওয়ার খবরে সবাই খুশি। তারা মনে করছে তাদের দুর্দিন কাটবে এবার।

চুনকুড়ি নদীর তীরে দেখা গেল কয়েকজন জেলে নৌকা সংস্কার করছেন। সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ। সেখানে মোতালেব গাজী বলেন, গত আট মাসের মধ্যে পাঁচ মাস সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরা বন্ধ রেখেছে বন বিভাগ। তাঁরা দীর্ঘ সময় বেকার থাকায় কষ্টে রয়েছেন। মহাজনের কাছ থেকে আগাম ঋণ নিয়েছেন। এবার দুঃখের অবসান হওয়ার আশা করছেন তিনি।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ জানান, বুধবার থেকে আবার মাছ ও কাঁকড়া ধরার অনুমতি দেওয়া হবে। এতে করে আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। জেলেদের সমস্যা দূর হবে। বুধবার সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে এক হাজার নৌকায় পাঁচ হাজার জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন বলে তিনি ধারণা করছেন।