default-image

নরসিংদীর বেলাবতে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কৃষকনেতা প্রয়াত আবদুল হাইয়ের বাড়িতে মাটি খুঁড়তে গিয়ে গুলিভর্তি একটি বাক্স পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চরউজিলাব গ্রামের ওই বাড়ির আঙিনায় বাক্সটি পান মাটি কাটার শ্রমিকেরা। পরে খবর পেয়ে বেলাব থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গণনা শেষে বাক্সে ৩ হাজার ৪৬০টি গুলি থাকার খবর জানায় পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ওই বাক্স থেকে থ্রি নট থ্রি রাইফেলে ব্যবহৃত ৩ হাজার ৪৬০টি গুলি পাওয়া গেছে। এত দিন ধরে মাটিচাপা অবস্থায় থাকায় মরিচা পড়ে এগুলো পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এগুলো মজুত রেখেছিলেন।

ওই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন বলেন, কৃষকনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত আবদুল হাইয়ের বাড়িটির একটি অংশে মাটি ভরাট করছিলেন মাটি কাটার শ্রমিকেরা। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ওই মাটি কাটা হচ্ছিল বাড়িটির আঙিনার অন্য একটি অংশ থেকে। মাটি কাটার একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে কোদালের কোপে শক্ত কিছুর অস্তিত্ব টের পান একজন শ্রমিক। পরে সবাই মিলে মাটির নিচ থেকে বাক্সটি বের করে আনেন। এ সময় বাড়িটির কর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের ছেলে বায়েজিদ হোসেনকে বাক্সের কথা জানানো হয়। পরে সেটি খুলে গুলি পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

পরে বায়েজিদ হোসেন বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বেলাব থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রাত ১০টা পর্যন্ত মাটি খুঁড়ে আরও খোঁজাখুঁজি করে। পরে গণনা শেষে ৩ হাজার ৪৬০টি গুলি উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। এ সময় স্থানীয় লোকজন মাটি খুঁড়ে বের করে আনা গুলিগুলো দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।

বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে জেলও খেটেছিলেন। ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। এখানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এখান থেকেই বিভিন্ন অপারেশনে যেতেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এসব ঘটনা এত দিন সবাই জানলেও বাড়ির আঙিনায় লুকিয়ে রাখা গুলিভর্তি বাক্সের খবর কেউ জানতেন না।’

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফায়েত হোসেন এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া থ্রি নট থ্রি রাইফেলের এসব গুলি মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহারের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা মজুত রেখেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন