মাঠে খেলার সময় পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে দুই ছাত্রের মৃত্যু

পানিতে ডুবে মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বান্দরবানের লামায় মাঠে খেলার সময় পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মূলত ঢলের তোড়ে প্রবল স্রোতে পানিনিষ্কাশনের বড় নালায় পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই ছাত্র হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের রজব আলীর ছেলে আবদুল কাদের জিলানী (১২) ও ঠাকুরগাঁও সদরের হাজিপাড়ার বুলবুল মোস্তাফিজের ছেলে শ্রেয়ো মোস্তাফিজ (১১)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, দুপুরে লামা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সময় পাহাড়ের পাদদেশের মাঠে খেলছিল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিদ্যালয়টির দুই আবাসিক ছাত্র। এ সময় পাহাড় থেকে ঢলের পানি নেমে এসে মাঠের পাশে দেয়াল ভেঙে দুজনকে গভীর নালার মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। এরপর ঢলের তোড়ে প্রায় ৬০ ফুট লম্বা দীর্ঘ পাইপলাইনের মতো নালার ভেতর দিয়ে দুই ছাত্র ভেসে যায়। পরে পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজটি লামা উপজেলা সদর ২৫ কিলোমিটার দূরে সরই ইউনিয়নের ক্যজুপাড়া এলাকায় অবস্থিত। নির্জন পাহাড়ে গড়ে তোলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পাশে আবাসিক শিক্ষার্থীদের রাখা হয়।

নিহত শিক্ষার্থী শ্রেয়ো মোস্তাফিজের বড় চাচা জাকির মোস্তাফিজ বলেন, যৌথ পরিবারে তাঁদের তিন ভাইয়ের সব মেয়েসন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলেটির মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন বিপর্যস্ত। দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় কারও অবহেলা আছে কি না, তদন্ত হওয়া দরকার। কারণ, পাহাড়ের পাদদেশের মাঠে এত ভারী বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের খেলতে দেওয়া দায়িত্বে অবহেলার শামিল।

দুই শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যুর ব্যাপারে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা কেউ ফোন ধরেননি।
লামা সরই ইউনিয়নের ক্যজুপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে খেলার মাঠসংলগ্ন বিশাল পাইপলাইনের নালার ভেতর ঢুকে ভেসে যাওয়া দুই শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঢলের তোড়ে প্রথমে একজন নালায় পড়ে গেলে আরেকজন তাকে রক্ষা করতে যাওয়ায় সে–ও ভেসে গেছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।