default-image

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে নিয়োজিত আট বিদেশিসহ ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত বিদেশি আটজনের সবাই ফিলিপাইনের নাগরিক। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে একজন চিকিৎসক রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক (রোগনিয়ন্ত্রণ) এস এম আশরাফুজ্জামান এই তথ্য জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ৭০ জনের নমুনা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনের প্রতিবেদন পজিটিভ আসে। আক্রান্তরা মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে বিভিন্ন পদে কর্মরত। আক্রান্তদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও আটজন ফিলিপাইনের নাগরিক। বুধবার পর্যন্ত এই উপজেলায় কোভিড–১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭০। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫১ জন।

জানতে চাইলে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিডেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রকল্পের নির্মাণকাজে নিয়োজিত বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে আটজন বিদেশি রয়েছেন। তাঁরা সবাই ফিলিপাইনের নাগরিক। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন বিদেশিসহ পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ছয়জন বিদেশিকে প্রকল্পের ভেতরে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

মাতারবাড়ীর দুর্গম ১ হাজার ৬০০ একরের পরিত্যক্ত উপকূলীয় লবণ মাঠে চলছে দেশের বৃহৎ কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাকর্মযজ্ঞ। প্রায় পাঁচ বছর পর এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে আলোকিত হবে পুরো কক্সবাজার। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা দিচ্ছে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ সরকারের। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিডেট। ইতিমধ্যে প্রকল্পের অন্তত ৩৭ শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন