আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ মো. আবদুল্লাহ গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে রানীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক আক্তারুল ইসলাম ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আসামির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আদালতের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক আসামির অপরাধের শাস্তি কারাবাসের পরিবর্তে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা করে ১০ কর্মদিবস মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর রায় দেন। আজ থেকে সেই রায় কার্যকর হয়েছে।

আইনজীবী জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল্লাহ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। তাঁর দুই মেয়ে। এক মেয়ে কোরআনের হাফেজ ও অন্যজনের প্রায় শেষের দিকে। তিনি অপরাধী হলেও তাঁকে শাস্তি দিয়ে কারাগারে পাঠালে মেয়েদের ভবিষ্যৎ জীবন ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া আবদুল্লাহ সৎভাবে জীবনযাপনের পাশাপাশি মাদকসংশ্লিষ্ট কাজ থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার করায় আদালত এ রায় দেন। এ রায়ে আসামি ভালো পথে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল হামিদ বলেন, প্রবেশনের সময় আসামি প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গ করলে বা তাঁর আচরণ সন্তোষজনক না হলে প্রবেশন আদেশ বাতিল করবেন আদালত। তখন তাঁকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডাদেশ ভোগ করতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি মনতোষ কুমার দে প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের রায় আসামিদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। এর মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজেদের শুধরে নিতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।