কুষ্টিয়া মিরপুর পৌরসভা নির্বাচন ১৬ জানুয়ারি। মেয়র পদে প্রার্থী তিনজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র এনামুল হক। তিনি মিরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচন ও পৌরসভার সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

default-image

টানা দুইবার মেয়র হয়েছেন। তৃতীয়বারের মতো আবার নির্বাচন করছেন। পৌরসভার উন্নয়নে আপনি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পেরেছেন?

এনামুল হক: ১৯৯৯ সালে এই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম ১০ বছর নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই হয়নি। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর গোছানোর চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয় শ্রেণি ও জনসংখ্যা বিবেচনায় বরাদ্দ কম পাওয়া যায়। এই পৌরসভা একেবারেই গ্রাম ছিল, সেটা উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

আপনার ১০ বছরে পৌর এলাকায় দৃশ্যমান এমন কী উন্নয়ন করেছেন, যা দেখে জনগণ মুগ্ধ?

এনামুল হক: আগেই বলেছি, এটা গ্রামের মতো ছিল। তারপরও পাকা সড়ক,নালা নির্মাণ করা হয়েছে।

পৌরবাসীর জন্য পানি সরবরাহ কতটুকু নিশ্চিত করেছেন?

এনামুল হক: এটা সত্য পৌরসভার কোনো এলাকার বাড়িতে পানির লাইন নেই। একটা বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরই ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

যদি মেয়র হিসেবে আবার নির্বাচিত হন, প্রথম কাজ কী হবে?

এনামুল হক: কোনো ভোটার বা নাগরিক কেউই আমাকে তেমন কিছু করার কথা বলেনি। তারা জানেই আমি কাজপাগল মানুষ। মেয়র নির্বাচিত হলে পৌর এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব।

পৌর এলাকায় ঘুরে বেড়ানো বা চিত্ত–বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। পৌরবাসীর বিনোদনের জন্য কোনো কিছু করার পরিকল্পনা আছে কী?

এনামুল হক: পৌরসভার তত্ত্বাবধানে একটা পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। পুনরায় আবার পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে জনগণ আপনার কাছ থেকে কতটুকু সহায়তা পেয়েছে?

এনামুল হক: বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে।

আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, আপনি তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও বাধা দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

এনামুল হক: তাঁদের তো কোনো কর্মী নেই। হুমকি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

পৌরসভায় যত উন্নয়নকাজ হয় তার অধিকাংশ কাজ কী আপনি করে থাকেন?

এনামুল হক: বাস্তব কথা, কিছু কিছু কাজ ঠিকাদারেরা করতে আগ্রহ দেখান না। তখন আমি বা আমার বন্ধুকে দিয়ে করালে কথা ওঠে মেয়র নিজেই সব করছেন।

পৌর এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা বন্ধে আপনি কতটুকু ভূমিকা রেখেছেন?

এনামুল হক: মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এক পথসভায় আপনি বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রকাশ্যে যেন সিল মারা হয়। আপনি এ ধরনের কথা কেন বলেছেন?

এনামুল হক: এটা এ রকম না। ভোটাররা কেউ যদি সাহস করে ও প্রকাশ্যে ভোট দিতে চান, আপনি কি তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেন। আইন তো এ রকম না যে ভেতরেই (গোপন কক্ষে) দিতে হবে। ভেতরে ভোট দিতে হয় নিরাপত্তার জন্য। কেউ যদি সামনে দেন, তাহলে বাধার কি থাকতে পারে। আমি এ কথাটি হয়তো বলেছি। ভোটার যদি নিজেই সামনেই সিল মারেন, তাহলে আমার কিছু বলার নাই।

প্রথম আলো: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এনামুল হক: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন