default-image

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জের ধরে নূর উদ্দিন (৩০) নামে মসজিদের এক ইমামের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভজিটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ইমামকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী, আহত ইমামের পরিবারের সদস্য ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নূর উদ্দিনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি জুড়ী উপজেলার ভজিটিলা এলাকায়। সেখানে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকেন। প্রায় চার মাস আগে ভজিটিলায় অবস্থিত শাহ সুফি জোবেদ আলীর মাজারসংলগ্ন মসজিদে ইমামতির চাকরি নেন। নির্জন স্থান হওয়ায় মাজারে প্রায়ই মাদকসেবীরা আড্ডা জমান। নূর উদ্দিন তাঁদের বাধা দেন। সম্প্রতি তিনি মাজারের খাদেম সিদ্দেক আলীর বসতঘরে গাঁজা ও মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম পান। পরে তা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে তুলে দেন। ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলের দিকে একই ইউনিয়নের ভোগতেরা এলাকার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি শাহ আলম অজ্ঞাতনামা আরও দুই যুবককে নিয়ে মাজারে যান। একপর্যায়ে তাঁরা ধারালো ক্ষুর দিয়ে নূর উদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে ওই দিনই তিনি বাদী হয়ে শাহ আলমসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নূর উদ্দিন বাড়ির পাশে অবস্থিত শৌচাগারে যান। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে মাটিতে পড়ে ছটফট করতে দেখেন। এ সময় মুখোশধারী দুই ব্যক্তিকে দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে দেখেন তাঁরা। স্বজনেরা নূরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসা কর্মকর্তা নুরুন নাহার আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, নূর উদ্দিনের দুই হাত ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। মাথায় কিছু জায়গা ফোলা। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বমি হওয়ায় অবস্থার অবনতি হয়। তাই তাঁকে সিলেটে স্থানান্তর করা হয়।

আহত নূর উদ্দিনের স্ত্রী ইমা বেগম কেঁদে কেঁদে বলেন, আগের ঘটনায় মামলা করায় মাদকসেবীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর স্বামীর প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালান। মামলার পর আসামি গ্রেপ্তার হলে আবার এই ঘটনা ঘটত না।

জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, আগের মামলার তদন্ত চলছিল। আসামিও পলাতক। এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটল। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘর থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়ে মাজারের খাদেম সিদ্দেক আলী কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নূরের ওপর হামলার বিষয়েও তাঁর কিছু জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, মাজারে স্থানীয় ও বহিরাগত কিছু যুবক গিয়ে মাদক সেবন করেন বলে ইমাম নূর সম্প্রতি তাঁদের কাছে অভিযোগ করেন। সেখানে গাঁজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পেয়ে তিনি তা এনে জমা দেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন