সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া আহ্বান জানিয়ে শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘শাজাহান খানের বাবাকে নিয়ে আমার দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আজ মাদারীপুর উত্তাল। কিন্তু আমি যে কথা বলেছি, তার কোনো ব্যাখ্যা তাঁদের কাছে নেই। অথচ আমাকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। আপনি যদি মনে করেন, আমি ভুল বলেছি, আপনি আওয়ামী লীগের দলীয় ফোরামে ব্যাখ্যা চাইতে পারতেন। অথচ সেটা না করে জামাত-শিবির, স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপির ছেলেপেলে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। আপনি যেটা করেছেন, তার জন্য আজ হোক বা কাল হোক, আপনাকে মাদারীপুর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরও বলেন, ‘আমি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা দলের শৃঙ্খলা ও শেখ হাসিনার নির্দেশ মানা মানুষ। শাজাহান খান, আপনি আপনার বাবার নির্দেশ মানেননি। বাবার নির্দেশ না মেনে জাসদ করেছিলেন। আমরা যাঁরা তখন কর্মী ছিলাম, তাঁরা আপনার বাবার নির্দেশ মেনে আওয়ামী লীগ করেছি। যে বাবার নির্দেশ আপনি মানেননি, সেই বাবার জন্য আপনি আমাকে কটূক্তি করে সেই কথা বলেছেন। মানুষের মধ্যে আজেবাজে কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। আমি যদি আপনার বিরুদ্ধে বলা শুরু করি, তাহলে পালানোর সুযোগও পাবেন না।’

শাজাহান খান মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন দাবি করে শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘আসুন সামনাসামনি সত্য কথা বলি। সত্য কথা বলতে বুক কাঁপার কথা নয়। শাজাহান খান, আপনি অনেক অসত্য কথা বলেন। আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার সম্বন্ধেও আপনি অসত্য কথা বলেছেন। আপনি বলেছেন, শেখ হাসিনা নাকি কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া মিটিং করতে পারেননি আপনাকে ছাড়া। আপনি মিথ্যাবাদী। এই কথা আপনি যদি না তুলে নেন, তাহলে এই এলাকার মানুষ আপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করবে। জনসমক্ষে আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’

রাজৈর পৌর আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর কমিটির আহ্বায়ক আবদুস কুদ্দুস মিয়া। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য সেকান্দার আলী শেখ, দেলোয়ার হোসেন, আল-আমীন মোল্লা, রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জমির খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, রাজৈর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক, পৌর মেয়র নাজমা রশিদ প্রমুখ।

গত ২০ মে রাজৈর উপজেলার শান্তি নিকেতন কেন্দ্রে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লা সাংসদ শাজাহান খানের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আচমত আলী খানের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা নিয়ে একটি বক্তব্য দেন। শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিবাদ হচ্ছে এবং কয়েকবার সংঘর্ষের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে।