default-image

মাদারীপুরে করোনাভাইরাসে সংক্রমিতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। আজ বুধবার জেলায় নতুন করে ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮১০। প্রতিদিন সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের নেই তেমন কোনো তৎপরতা।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র জানায়, গত ২৭ ও ২৮ জুন জেলার যাঁরা করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়েছিলেন, আজ তাঁদের মধ্যে ১৮৮ জনের প্রতিবেদন আসে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। এর মধ্যে ওই ১৮ জনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য আছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ মাদারীপুর জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন। পরের ২ মাসে ৫০ জন শনাক্ত হন। মে মাসে আরও ৭৩ জন সংক্রমিত হন। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ১৮৪ জনের সংক্রমিতের তথ্য পাওয়া যায়। জেলায় ১৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। পরের দুই মাসে মারা যান দুজন। শুধু জুন মাসেই মারা গেছেন ৯ জন।

নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে এই উপজেলাটিতে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬১। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চসংখ্যক ২৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন সদর উপজেলায়।

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন সফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সংক্রমণ কমিয়ে আনতে আগে মাদারীপুরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন নতুন করে ওয়ার্ড, পাড়া ও বাড়ি ধরে লকডাইন করা হবে। এতে সংক্রমণের পরিমাণ কমতে পারে।

জেলায় করোনায় সংক্রমিত বেশির ভাগ মানুষেরই কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং হচ্ছে না। এর কারণ জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক। এত মানুষের বাড়িতে গিয়ে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করা সম্ভব নয়। এ কাজের জন্য পর্যাপ্ত লোকবলও নেই।

এদিকে জেলার হাট-বাজারগুলোতে মানুষের সমাগম বেড়েছে। জেলায় সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সচল রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ এখনো স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। যানবাহনগুলোতেও নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার তৎপরতা।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখতে বলা হয়েছে। যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ কমাতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন