default-image

মাদারীপুরে বুধবার ৬২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৯। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৫ জন।

পুলিশ ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত ১১ ও ১২ জুলাই জেলায় যাঁরা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতিবেদন এসেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। ১৮২টি প্রতিবেদনের মধ্যে ৬২টিতে পজিটিভ এসেছে। মোট সংক্রমিতের ২৭ জন শনাক্ত হয়েছেন সদর উপজেলায়। এ নিয়ে সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯৮, যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়াও রাজৈর উপজেলায় নতুন করে এক চিকিৎসকসহ ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে রাজৈর উপজেলায় ২৯৭ জনের করোনা শনাক্ত হলো। কালকিনি উপজেলায় নতুন করে ১২ জনসহ মোট শনাক্ত হয়েছেন ১৮৩ জন এবং শিবচর উপজেলায় নতুন করে এক চিকিৎসকসহ ১ দিনে শনাক্ত হয়েছেন ১৩ জন। এ নিয়ে এই উপজেলায় মোট ১৬১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানবিদ মীর রিয়াজ আহমেদ জানান, ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনসহ জেলায় ৬৭০ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৩১ জন। আর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন ২৩ জন।

গত ৮ মার্চ মাদারীপুর জেলায় প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন। এরপর দুই মাসে শনাক্ত হন ৫০ জন। মে মাসে আরও ৭৩ জন শনাক্ত হন। জুন মাসে শনাক্ত হন ৬৬৯ জন। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শনাক্ত হন ১০৪ জন। দ্বিতীয় সপ্তাহে শনাক্ত হন ১৪৩ জন। বর্তমানে জেলায় মোট ১ হাজার ৩৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে জেলায় করোনা প্রতিরোধের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করা হলেও সংক্রমণ রোধে এসব কমিটি কোনো কাজে আসছে না। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সভা–সেমিনার করে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালেও সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা নেই। ফলে জেলায় সংক্রমণের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে।

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন মো. সফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আর যা–ই করি, জনগণ সচেতন না হলে আমাদের সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব না। আমরা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমাদের সঙ্গে কারও সমন্বয়হীনতা নেই। আমরা সবার মতামত নিয়েই কাজ করছি। এখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী মহলকে সবচেয়ে আগে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের থেকে আমরা সেভাবে সহযোগিতা পাচ্ছি না।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন