default-image

মাদারীপুরের রাজৈরে শাহেদ বেগ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় দেন। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নের ইউসুফ আলী মুন্সীর ছেলে সেলিম মুন্সী (২৮) ও একই এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে পাভেল শিকদার (২৬)। তাঁরা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে পলাতক।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহেন্দ্রদী এলাকার এলেমউদ্দিন বেগের ছেলে শাহেদ বেগ ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে লিবিয়া যাওয়ার জন্য টাকা সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকার ইউরো ও ৪০ হাজার টাকা ছিল। বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা শাহেদকে হত্যা করে লাশটি বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি খালে ফেলে রাখেন। পরদিন সকালে রাজৈর উপজেলার বাটিয়ারকান্দা গ্রামের খালের মধ্যে নিহত শাহেদের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর নিহতের বড় ভাই রফিকুল বেগ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে রাজৈর থানার তৎকালীন পরিদর্শক মো. এমদাদুল হক ২০১৩ সালে ৬ জানুয়ারি সেলিম মুন্সী ও পাভেল শিকদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘদিন আদালতের যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার দুপুরে দুজন পলাতক আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস। একই সঙ্গে সাজপ্রাপ্ত আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

বিজ্ঞাপন

শাহেদ বেগের মা কাঞ্চন বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেডার ছবিই এহন আমার জীবন। ওগো ফাঁসি হইছে, আমি খুশি হইছি।’

নিহত শাহেদের বোন লাকি বেগম বলেন, ‘আজও আমার মা তার ছোট ছেলের ফ্রেম করা ছবি বুকে নিয়ে ঘুরে। আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। যারা নির্মমভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে, আমরা তাদের দ্রুত ফাঁসি চাই।’

শাহেদ বেগের বড় ভাই ও মামলার বাদী রফিকুল বেগ বলেন, ‘আজকের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আসামিরা দেশে নেই, তারা বিদেশ পালিয়ে গেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত গ্রেপ্তার করে এ রায় কার্যকর করা হোক।’

মাদারীপুর জেলা দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) মো. সিদ্দিকুর রহমান সিং বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি বিচারাধীন থাকার পর আজ আদালত দুই আসামিকে ফাঁসির আদেশের সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জারিমানা করেন।
মাদারীপুর আদালত পুলিশের পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র দাস প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণা সময় আসামিরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচারক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন