বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, তাঁকে দেখে শাহীদ পারভেজের কর্মী-সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে তাঁরা দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে তাঁর (হাফিজুর) বাড়ি ও তাঁর ভাই সোহারাব হোসেনের বাড়িতে আতর্কিত হামলা চালান।

হামলাকারীরা ইটপাটকেল ছুড়ে ঘরের দরজা-জানালা, হাফিজুরের ১টি ব্যক্তিগত গাড়ি ও তাঁর ঘরের সামনে থাকা ১০টি মোটরসাইকেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাঁর স্বজন, কর্মীসহ আটজন আহত হন। এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে কালকিনি থানা-পুলিশ ও র‍্যাব-৮–এর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

default-image

হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আঁচ করে আগেই তিনি প্রশাসনকে লিখিত জানিয়েছেন। কিন্তু তারাও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর বাসার ঠিক সামনে নৌকার প্রার্থী নির্বাচনী ক্যাম্প বসিয়ে এ ধরনের হামলা-ভাঙচুর একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। নৌকার প্রার্থী ও তাঁর লোকজন হামলা করে তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে শাহীদ পারভেজ বলেন, ‘আমার নির্বাচনী ক্যাম্পটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে। আমার ক্যাম্পটি উচ্ছেদ করতে প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন হামলা চালায়। পরে তারা নিজেরা হামলা থেকে বাঁচতে নিজেদের বাড়ি, গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।’

শিকারমঙ্গলে বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়িতে হামলা

এদিকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শিকারমঙ্গল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল আলম মৃধা, তাঁর দুই ছেলেসহ কর্মী-সমর্থকেরা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল হকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় সিরাজুল আলম মৃধা উত্তর চরফতে বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি নির্বাচনী পথসভার আয়োজন করেন। সভাস্থল থেকে মাত্র ১০০ মিটার দক্ষিণেই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সিরাজুল হকের বাড়ি।

সিরাজুল হক বলেন, সিরাজুল আলম মৃধা, তাঁর দুই ছেলেসহ কয়েক শ কর্মী ও সমর্থক তাঁর বাড়িতে হামলায় অংশ নেন। হামলায় তাঁর বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুণ অর রশিদ, বোন মুর্শীদা বেগম, ছোট ভাই মনির মালসহ পরিবারের সাত সদস্য আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

সিরাজুল হক প্রথম আলোকে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে ও নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রচারণার ব্যাপারে গত মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। উল্টো আমার ঘরের ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। নৌকা পেয়েছে বলে সিরাজুল আলম যা খুশি তা–ই করবে! এটা কেমন আচরণ!’

বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজুল আলম মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কোনো নেতা-কর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালাননি। যাঁরা এসব অভিযোগ করছেন, তাঁরা নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার জন্য এসব বলছেন।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসতিয়াক আশফাক বলেন, দুটি ঘটনার পরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এখানে দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই পক্ষকেই থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তাঁরা অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন