বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এজাজুরের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন হোসনাবাদ এলাকার হবি মাতুব্বর। প্রচারণা শেষে হবি তাঁর এলাকার একটি দোকানে বসে নির্বাচনী আলাপ করছিলেন। এ সময় একই এলাকার আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তালেব মিয়ার কর্মী–সমর্থক কালু ব্যাপারী, বেলায়েত হোসেন, দেলোয়ার খানসহ বেশ কয়েকজন হবিকে মারধর শুরু করেন। হবি প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় ঘরের ভেতরে ঢুকে আবু তালেবের কর্মী–সমর্থকেরা ব্যাগে করে আনা হাতুড়ি দিয়ে হবিকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গেলে হবির স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও ভাবি চন্দ্রবানু বেগমকে (৫৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন হামলাকারীরা।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন, কালিকাপুরের দুই নারীসহ তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক নারীর ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল প্রায় সম্পূর্ণ কেটে গেছে। আর হবিকে শক্ত কোনো কিছু দিয়ে বেদম পেটানো হয়। পেটানোর কারণে তাঁর মুখমণ্ডল ফুলে গেছে। দুই পায়েও গুরুতর জখম আছে। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

আহত হবি মাতুব্বরের ভাই বাচ্চু মাতুব্বরের ভাষ্য, ‘আমরা বর্তমান চেয়ারম্যান এজাজ আকনের পক্ষে। সেই কারণেই আমার ভাইকে পেটানো হয়েছে।’

default-image

আহত চন্দ্রবানু বেগম বলেন, ‘আমি ঘরেই বসে ছিলাম। সাধারণ ভোটার। কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করি না। তবু ঘরের ভেতরে আইসা ওই সাত-আটজন হবিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটানো শুরু করে। ওরে বাঁচাতে গেলে ওরা ছুরি দিয়ে আমার আঙুলে কোপ দেয়। আমি বিচার চাই।’

কালিকাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. এজাজুর রহমান আকন বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আমার প্রতিপক্ষ আবু তালেব এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছেন। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু তালেব মিয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলার ঘটনা আমি কিছুই জানি না। রাত নয়টায় আমি এ ঘটনা শুনেছি। আমার কোনো লোক এজাজ আকনের কর্মীকে মারধর করেনি। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ফাইকুজ্জামানের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এজাজ এখন আমাকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।’

মাদারীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘কালিকাপুরে একটি মারামারির খবর পেয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেননি। তাঁরা অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন