বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জমি বিক্রির এ খবর জানাজানি হলে কয়েক দিন আগে এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সেদিন তাঁরা বলেছিলেন, আসলাম সরকার আগে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ছিলেন। এখন তিনি কেউ নন। তিনি কমিটির সভাপতি সেজে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন।

এর দলিলমূল্য দেখানো হয়েছে ৫১ লাখ টাকা। তবে এলাকাবাসী বলছেন, এই জমির মূল্য দুই কোটি টাকার বেশি। জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে এলাকাবাসী আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি যোগ দেন। সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একরামুল হক প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নবিবর রহমানের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় পবা উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাসহ এলাকার দুই শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংসদ আয়েন উদ্দিন বলেন, আমানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুল করিমের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি জমি ফেরত দিতে চেয়েছেন। মাদ্রাসার একটি নতুন কমিটি করা হবে। সেই কমিটির কাছে জমি হস্তান্তর করা হবে। আর জমি বিক্রি চক্রের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের সবাইকে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। তাঁদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জমি ফেরত নেওয়ার জন্য সাংসদ মাদ্রাসার একটি নতুন কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

জানতে চাইলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আসলাম সরকার বলেন, দুই বিঘার কিছু বেশি জমি তিনি আমানা গ্রুপকে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। মাদ্রাসার নামে আরও এক বিঘা জমি রয়েছে। তিনি বলেন, আমানা গ্রুপের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল, তাঁরা নতুন করে মাদ্রাসাটি চালু করার ব্যবস্থা করবেন। মাদ্রাসায় যাঁরা শিক্ষক ছিলেন, তাঁরা চাকরি করতে চাইলে তাঁদের বহাল করা হবে। আর যাঁরা চাকরি করবেন না, তাঁদের দেওয়া অনুদান ফেরত দেওয়া হবে। ইসলাম শিক্ষার প্রসারের স্বার্থে আমানা গ্রুপ আরও চার বিঘা জমি প্রতিষ্ঠানকে দিতে চেয়েছিল। মাদ্রাসার সঙ্গে মসজিদ, কবরস্থানের জন্য জানাজার ঘর, এতিমখানা, হেফজখানা—সবই করে দিতে চেয়েছিল।

আসলাম সরকার বলেন, মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, এটি প্রতিষ্ঠার পর মাদ্রাসা বোর্ডের অধিভুক্ত হয়নি। শিক্ষকেরা বেতন পাচ্ছিলেন না বলে যে যেদিকে পারেন চলে গেছেন। সেটি ভালো করে পরিচালনার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই জমি বিক্রিতে কোনো টাকা লেনদেন হয়নি। আবু বকর সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসাকে জমিটা দান করেছিলেন। দানের জমি দান করা যায় না, এ জন্য একটি বিক্রয় কবলা দলিল করতে হয়েছে। মৌজা মূল্য হিসেবে জমির দামটা দেখানো হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে বাস্তবে জমির দাম আরও অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমানা গ্রুপকে মাদ্রাসাটি হস্তান্তরের উদ্যোগে তাঁর পক্ষে অনেকেই ছিলেন। এখন কেউ দায় নিতে চাচ্ছেন না। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে একটি রাজনীতি হচ্ছে। তিনি এই রাজনীতির শিকার হয়েছেন।

এ ব্যাপারে আমানা গ্রুপের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও চেয়ারম্যান ফোন ধরেননি। তবে সাংসদ আয়েন উদ্দিন জানিয়েছেন, আমানা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সাংসদ বলেন, জমি ফেরত নেওয়া হবেই। জমিটা যাতে দখল না হয়ে যায়, এ জন্য তিনি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তা ঘিরে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন