কুমিল্লার দেবীদ্বার

মাদ্রাসাশিক্ষককে পেটানোর অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

বিজ্ঞাপন
default-image

নিজ বাড়িতে সালিস পরিচালনার নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসান গতকাল রোববার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদেও আছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল সকালে উপজেলার বেতরা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কাছে আমেনা আক্তার নামের এক গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগ করেন। এরপর চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষককে তাঁর নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন। এরপর কোনো বক্তব্য না শুনেই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ওই শিক্ষককে জখম করেন। পরদিন ১০ এপ্রিল ওই শিক্ষককে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এলাকাবাসী। জানতে পেরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নির্দেশে গত ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন আহত শিক্ষক।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ৩ এপ্রিল একই ইউনিয়নের উখাড়ি গ্রামের ওয়ালি উল্লাহর স্ত্রী কাজল বেগম ও তাঁর শিশুপুত্র শরীফকে একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পিটিয়ে আহত করেন চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় আহত কাজল বেগম বাদী হয়ে ১৯ এপ্রিল চেয়ারম্যান ছাড়াও তাঁর ভাতিজা মো. শামীমের বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। দুই মামলায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে গত ১২ আগস্ট ইউএনও রাকিব হাসান চিঠি দিয়ে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্রভুক্ত ওই চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করার প্রস্তাবনা পাঠান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯–এর ধারা ৩৪ (১) অনুযায়ী ওই চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মাদ্রাসাশিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, ‘কোনো বক্তব্য না শুনেই চেয়ারম্যান আমার মেয়ের সামনে আমাকে মারধর করেন। এর মধ্য দিয়ে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমি জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সবার কাছে কৃতজ্ঞ, তাঁরা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।’
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্তের কথা শুনেছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন