মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গোপালপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর

মানবতাবিরোধী অপরাধ

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামান কোহিনুর ও আলমগীর হোসেন তালুকদারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মোশারফ হোসেন বলেন, গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের চাতুটিয়া গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতে তাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার করা আলমগীর হোসেন ১৯৭৬ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। পরে গোপালপুর পৌরসভার সুতী দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে গত বছরের নভেম্বরে অবসরে যান।

অপর দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট থানা-পুলিশ রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে অপর যুদ্ধাপরাধী মনিরুজ্জামান কোহিনুরকে গ্রেপ্তার করে। তিনি গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের বেড়াডাকুরি গ্রামের বাসিন্দা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, মনিরুজ্জামান কোহিনুরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে কারাগারে এবং আলমগীর হোসেনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। কাল শনিবার তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

আলমগীর ও কোহিনুরের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ মিছিল করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। মিছিল শেষে পৌরসভার থানা ব্রিজ এলাকায় সমাবেশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ও রাজাকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৩০ জুন মনিরুজ্জামান কোহিনুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার ঝাওয়াইল বাজারে হামলা চালান। ৩০ সেপ্টেম্বর মনিরুজ্জামান ও আলমগীর হোসেন একদল রাজাকার ও আলবদরকে সঙ্গে নিয়ে মাহমুদপুর গ্রামে হামলা চালান। তাঁরা শতাধিক বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর ১৭ জনকে হত্যা করেন।