বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভ্যালেরি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বেদনা দেখে তাঁদের সেবার মধ্য দিয়ে যে কাজ শুরু করেছিলেন, যে আলো তিনি জ্বালিয়েছিলেন, সেই আলো আজ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। এ প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা আমাদের পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশু ও সদস্য, যাঁরা মনে করেছিলেন এটি একটি অভিশপ্ত জীবন, আজ ভ্যালেরি তাঁদের জীবনকে অর্থবহ করেছেন, তাঁদের সে ধারণা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিপ্লব বড়ুয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক ইমদাদুল হক মিলন, র‍্যাব-৪-এর পরিচালক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার, সিআরপির নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ সোহরাব হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিআরপির বিভিন্ন সেবা, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণসহ নানা কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সব সদস্য ও উপস্থিত অতিথিদের নিয়ে কেক কাটেন ভ্যালেরি। পরে একই স্থানে সিআরপির একীভূত বিদ্যালয়ের নিয়মিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইমদাদুল হক বলেন, সিআরপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ৪২ বছর ধরে ভ্যালেরি অ্যান টেইলর মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। মাত্র ৪ জন রোগীর সেবা দিয়ে শুরু হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে এখন বছরে গড়ে ৮০ হাজার মানুষ সেবা পাচ্ছে। সিআরপির কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অনেকে শারীরিক অক্ষমতাকে জয় করে পুনর্বাসিত হয়েছেন। এসব ভালো কাজের উদ্যোগ যাঁরা নিয়েছেন, যাঁরা এর সঙ্গে জড়িত, তাঁদের সামনে নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়। মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারলে, সে জীবন ব্যর্থ। কিন্তু ভ্যালেরি এটি পেরেছেন। আর এটিই জীবনের সার্থকতা। জীবনের প্রাপ্তিটা যেন এখানেই।

ভ্যালেরি অ্যান টেইলর বলেন, ‘আমরা আরও ৪২ বছর পার করতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সিআরপির সাভারের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২টি শাখা রয়েছে। আমরা চিকিৎসাসেবা সবার কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছি। রাজশাহীতে পাঁচ একর ও খুলনায় আট একর জমি দেওয়া হয়েছে। সেখানেও আমরা শাখা করব। সব দাতা ও আমাদের নানাভাবে সহযোগিতাকারীদের আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন