প্রথম আলো: তারপর কীভাবে চালু করলেন?

কায়ছার আলী চৌধুরী: গরিব উল্লাহ হাউজিং বাজারের সবজি বিক্রেতা ইব্রাহিম যে কাজটি শুরু করেছিলেন, তা আমরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছি। আরেক তরুণ আবু হাসান ও তাঁর সংগঠন মুসাইদাহ এতে সহায়তা করে। মুহাম্মদ রাশেদ উদ্দিন, আরশাদ সিদ্দিকী, সানা উল্লাহ চৌধুরী, মুহাম্মদ আলম, নাসির ফারুকীসহ আরও অনেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছেন।

প্রথম আলো: কোথায় কোথায় চালু হয়েছে?

কায়ছার আলী চৌধুরী: গরিব উল্লাহ হাউজিং বাজারের পর চট্টগ্রাম নগরের পূর্ব বাকলিয়া, চকবাজার, মোহরা ও কর্ণফুলী বাজারে এই মানবিক বাজার চালু করেছি। হাটহাজারীর নজুমিয়া হাট ও মদুনঘাট এবং রাঙামাটিতেও চালু হয়েছে।

প্রথম আলো: টাকা পাচ্ছেন কোথায় থেকে?

কায়ছার আলী চৌধুরী: শুরুতে নিজেদের টাকায় করেছি। কেউ যদি স্বেচ্ছায় সহায়তা করতে চান, আমরা তাতে না করি না। অনেকেই সহায়তা করছেন।

প্রথম আলো: কে কে সহায়তা করেছেন?

কায়ছার আলী চৌধুরী: বোয়ালখালী উপজেলা থেকে এক ব্যক্তি এসে দেড় হাজার টাকার সবজি ঝুড়িতে রেখে গিয়েছিলেন। কর্ণফুলী বাজারের সবজি বিক্রেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁরা প্রতিদিন এক কেজি করে সবজি ঝুড়িতে রাখবেন। নওগাঁ ও নাটোর থেকে ফোন করে দুজন জানতে চেয়েছেন, কীভাবে এই বাজার চালু করা যায়। কুমিল্লা থেকে ফোন পেয়েছি। এই উদ্যোগ নিয়ে স্বনামধন্য মানুষেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন।

প্রথম আলো: কারা উপকৃত হচ্ছেন?

কায়ছার আলী চৌধুরী: আসলে এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। যাঁরা কষ্টে আছেন, তাঁরা নিঃসংকোচে ঝুড়ি থেকে সবজি নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মানুষকে সবজি দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো: ব্যবস্থাপনা হচ্ছে কীভাবে?

কায়ছার আলী চৌধুরী: আমরা তদারকি করি। আর মূল ব্যবস্থাপনার কাজটি করেন বাজারের নির্দিষ্ট সবজি বিক্রেতা। তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। কোনো কারণে যদি ঝুড়ি খালি হয়ে যায়, তাহলে তা দ্রুত পূর্ণ করা হয়।

প্রথম আলো: এই বাজার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

কায়ছার আলী চৌধুরী: আসলে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আপাতত পবিত্র রমজান মাস পর্যন্ত মানবিক বাজার চালু রাখা নিয়ে কাজ করছি। পরের বিষয়টি পরে দেখা যাবে। স্বপ্ন দেখি, এই বাজার সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন