default-image

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এমন মানব পাচারে সিলেট বিভাগে শতাধিক দালাল জড়িত। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আছেন অর্ধশতাধিক দালাল। তাঁরা অবৈধ ট্রাভেল ব্যবসায়ী ও বিদেশে থাকা পাচারকারীদের হয়ে কাজ করেন। এই দালালদের ফাঁদে পড়ছেন তরুণেরা।

৭ থেকে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি

তুরস্ক-গ্রিস সীমান্তে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের সাকিতপুর গ্রামের জনি সর্দার ও নতুন কর্ণগাঁও গ্রামের জুনেদ আহমদ এবং শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের আকাশ রায়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রিস পাঠাতে দিরাইয়ের টুকদিরাই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হকের সঙ্গে তাঁরা জনপ্রতি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই, এরপর ইরান ও তুরস্ক হয়ে গ্রিস পাঠানোর কথা ছিল। আকাশের ভগ্নিপতি নীলেন্দু রায় বলেন, এই সাড়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য তাঁদের ঋণ করতে হয়েছে। বিক্রি করতে হয়েছে জমিজমা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনামুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১৫ মিনিট পর কল করবেন বলে সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

২৫ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সাজ্জাদ আহমদের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সাজ্জাদকে ইতালি পাঠাতে দুই দালালের সঙ্গে সাড়ে সাত লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল। সব টাকা তাঁরা দালালদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

default-image

দালালদের অপতৎপরতা প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি দেশে ফিরে আইনগত ব্যবস্থা নেন, তাহলে অবশ্যই প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। দালালদের অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসন উদ্যোগী হবে।

মানব পাচারে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সি

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সিলেট শাখা সূত্র জানায়, বিভাগের চার জেলায় নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সি ২৫০টি। এর বাইরে চার থেকে পাঁচ শ অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সি আছে। মূলত এসব অনিবন্ধিত এজেন্সিই মানব পাচারে জড়িত। ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল আটাবের পক্ষ থেকে ৭৪টি অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির তালিকা জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছিল।

অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চালানো উচিত বলে মনে করেন আটাব সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন।

default-image

সিলেটের পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ বলেন, আটাবের কাছ থেকে সম্প্রতি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর একটা তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তিন বছরে ৭৩ মামলা

গত তিন বছরে সিলেট বিভাগে মানব পাচারসংক্রান্ত ৭৩টি মামলা হয়েছে। পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয় সূত্র জানায়, এই ৭৩টি মামলার মধ্যে ৩২টি হয়েছে সিলেট মহানগরে। এসব মামলায় ২৬৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২৭ জন।

তবে অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা মামলা করেন না। স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্যও দেন না। ফলে দোষীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, এ–সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ নিয়মিত মামলা করার পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন