বিজ্ঞাপন

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়ার ২ নম্বর ঘাটে এসে নোঙর করে ফেরি শাপলা-শালুক। ফেরিটিতে দুই-তিনটি ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে ছিলেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। ঘাটে নেমে তাঁরা কিছুটা পথ হেঁটে চলেন। এরপর বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের বন্দোবস্ত করে ছোটেন ঢাকার দিকে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাটুরিয়া থেকে ঢাকার গাবতলী পর্যন্ত বাসে ভেঙে ভেঙে যেতে প্রত্যেককে কমবেশি ৪০০ টাকা করে গুনতে হচ্ছে। আর প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে গেলে পরিমাণটা বেড়ে হচ্ছে ৫০০ টাকার মতো। মোটরসাইকেলে গেলে লাগছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এত বেশি ভাড়া গুনতে হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়ছেন।

default-image

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় গ্রামের বাড়ি শরীফুল ইসলামের (৩৫)। স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিয়ে সেখান থেকে ঢাকার মিরপুরে যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। পাটুরিয়া ৩ নম্বর ঘাটে তাঁর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। শরীফুল বলেন, ‘বাড়িতে বৃদ্ধা মা-বাবা। কষ্ট করে ঈদের আগের দিন বাড়ি গিয়েছিলাম। আগের ঈদগুলোতে ৬০০ টাকা ভাড়া লেগেছে। এবার দেড় হাজার টাকা লেগেছে। আবার ঢাকায় ফেরার সময়ও একই অবস্থা।’

বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ১৭টি ফেরি ছিল। বর্তমানে এই নৌপথে ১৬টি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। যাত্রীদের চাপের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনসংখ্যক ফেরি কাজে লাগানো হচ্ছে।

এদিকে ঈদ শেষে আজও পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা যাতায়াত করছেন। ঈদে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতেও অনেককে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ায় যেতে দেখা গেছে।

ঢাকার ধামরাইয়ের এটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মী আবদুস সালাম স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানায় ১০ জন গার্ডের মধ্যে ৬ জন ঈদের আগে ছুটি নিয়া বাড়িতে গেছেন। তাই ঈদের আগে আমিসহ আরও চারজন ছুটি পাইনি। ছুটি শেষে তাঁরা কারাখানায় আসলে আমরা ছুটি পেয়েছি। তাই এখন বাড়িতে যাচ্ছি।’

মানিকগঞ্জের গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা আরিচা-মহাসড়কে কর্মস্থলগামী মানুষের চাপ থাকলেও মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট নেই। দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা লোকাল বাসসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন যানবাহনে কর্মস্থলে ফিরছেন।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ঈদ শেষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার কর্মস্থলগামী যাত্রীরা দৌলতদিয়া থেকে ফেরিতে পাটুরিয়া আসছেন। আবার পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া প্রান্তে যাত্রীরা যাচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌপথে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ফেরি চলাচল করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন